স্মার্টওয়াচের পেছনে সবসময় সবুজ আলো কেন জ্বলে? আসল কারণ জানলে চমকে যাবেন!

আজকের দিনে স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করেন না এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। ঘড়ি পরার সময় অনেকেই খেয়াল করেছেন যে স্মার্টওয়াচের পিছন দিকে একটি সবুজ রঙের আলো জ্বলতে থাকে। কখনো এটি একটানা অন থাকে তো কখনো আবার কয়েক সেকেন্ডের বিরতিতে ব্লিঙ্ক বা ফ্ল্যাশ করতে থাকে। এটি দেখে স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে ঘড়ির পেছনে এই সবুজ লাইট কেন দেওয়া থাকে? এটি কি নেহাতই কোনো ডিজাইনের অংশ, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনো বিশেষ প্রযুক্তি?

কীভাবে কাজ করে এই সবুজ আলো?
আসলে স্মার্টওয়াচে দেখতে পাওয়া এই ছোট সবুজ রঙের LED লাইটটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হেলথ ফিচারের সঙ্গে যুক্ত। এর প্রধান কাজ হলো মানুষের হার্ট রেট বা হৃদস্পন্দন নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করা। এর জন্য ঘড়ির পেছনে একটি বিশেষ ‘অপটিক্যাল হার্ট রেট সেন্সর’ ব্যবহার করা হয়।

যখন কেউ হাতে স্মার্টওয়াচ পরেন, তখন এই সেন্সরটি কলাইয়ের ত্বকের ওপর সবুজ আলো ফেলতে শুরু করে। এরপর সেন্সরটি খতিয়ে দেখে যে আলোর কতটা অংশ ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করছে এবং কতটা অংশ প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসছে। এই গোটা প্রক্রিয়ায় আমাদের শরীরের রক্তপ্রবাহ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হৃদয় যখন স্পন্দিত হয়, তখন ধমনীর ভেতরে রক্তের প্রবাহ বা ব্লাড ফ্লো বাড়ে ও কমে।

এই ওঠানামার কারণে ত্বকের দ্বারা শোষিত এবং প্রতিফলিত আলোর পরিমাণও পরিবর্তিত হতে থাকে। স্মার্টওয়াচের সেন্সর এই অতি সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলিকে খুব সহজেই ধরে ফেলে এবং তার ভিত্তিতেই হার্ট রেটের সঠিক হিসাব করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় PPG বা Photoplethysmography।

আলো কখনো একটানা তো কখনো ব্লিঙ্ক করার কারণ কী?
অনেকেই লক্ষ্য করে দেখেছেন যে স্মার্টওয়াচের এই সবুজ আলো সবসময় একই ভাবে কাজ করে না। কখনো এটি একটানা জ্বলতে থাকে তো কখনো আবার কিছুক্ষণ পরপর জ্বলে-ওভে। এর মূল কারণ হলো ঘড়ি সব সময় একই ফ্রিকোয়েন্সিতে হার্ট রেট মাপে না। যখন রিয়েল-টাইম বা একটানা রিডিংয়ের প্রয়োজন হয়, তখন সেন্সরটি বেশি সময় ধরে সক্রিয় থাকে। বিশেষ করে হাঁটার সময়, দৌড়ানোর সময় বা কোনো ভারী ওয়ার্কআউট করার সময় হৃদস্পন্দনে দ্রুত পরিবর্তন ঘটে, তাই ঘড়িটি সেন্সরকে বেশি মাত্রায় সক্রিয় রাখে।

শুধু কি সবুজ আলোই থাকে?
স্মার্টওয়াচে স্বাস্থ্যের নানা তথ্য ট্র্যাক করার জন্য শুধু সবুজ রঙের LED ব্যবহার করা হয় না। অনেক ডিভাইসে রক্তের অক্সিজেন মাত্রা বা SpO2 পরিমাপ করার জন্য আলাদা সেন্সর এবং ভিন্ন রঙের আলোর প্রয়োজন হয়। সেই কারণে কিছু স্মার্টওয়াচের পেছনে লাল বা ইনফ্রারেড (Infrared) আলোও জ্বলতে দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ, ঘড়ির পেছনে জ্বলে ওঠা প্রতিটি আলোর কাজ এবং উদ্দেশ্য আলাদা।

এই আলো কি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—স্মার্টওয়াচের এই সবুজ আলো কি মানুষের ত্বক বা শরীরের জন্য কোনোভাবে ক্ষতিকর? সাধারণত দৈনন্দিন ব্যবহারে এতে কোনো ধরনের সমস্যা বা ক্ষতি হয় না। এতে অত্যন্ত কম পাওয়ারের LED ব্যবহার করা হয়, যার একমাত্র কাজ সেন্সরকে প্রয়োজনীয় ডেটা সংগ্রহ করতে সাহায্য করা।

তবে একটানা অনেকক্ষণ ঘড়ি পরে থাকার ফলে যদি কলাইয়ে কোনো লালচে ভাব, চুলকানি বা অস্বস্তি অনুভূত হয়, তবে কিছু সময়ের জন্য ঘড়িটি খুলে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অনেক সময় সমস্যাটি আলোর কারণে নয়, বরং একটানা ঘড়ি পরে থাকা, ঘাম বসা কিংবা স্ট্র্যাবের সঙ্গে ত্বকের ঘর্ষণের ফলে হয়ে থাকে। তাই পরের বার যখন স্মার্টওয়াচের পেছনে সবুজ আলো জ্বলতে দেখবেন, তখন ভয়ের কোনো কারণ নেই। এটি কোনো ক্যামেরা বা নজরদারির ফিচার নয়, বরং আপনার স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখার এক দুর্দান্ত প্রযুক্তি!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *