জলপাইগুড়িতে বৃহন্নলা কুঠিতে বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার! পাক-যোগের অভিযোগে গ্রেফতার গুরুমা পিপাসা

বিএসএফ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে উত্তাল জলপাইগুড়ি শহর। বৃহস্পতিবার ভোরে শহরের উত্তর রায়কত পাড়ায় একটি বৃহন্নলা কুঠিতে দীর্ঘ প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালায় যৌথ বাহিনী। এই অভিযান থেকেই উদ্ধার হয়েছে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, তিন রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, বাংলাদেশের সিম কার্ড এবং একটি বাংলাদেশি বার্থ সার্টিফিকেট। এই ঘটনায় গুরুমা পিপাসা হিজরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

পুলিশ ও বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশি সিম কার্ডগুলি ব্যবহার করে নিয়মিত বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে ফোন করা হতো। সম্প্রতি পিপাসা হিজরা পাকিস্তানেও গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। এছাড়া, মনসা পুজোর আগে ও পরে প্রায় ৩৫ জন বাংলাদেশি বৃহন্নলা এই বাড়িতে এসেছিলেন বলে খবর মিলেছে। তাঁরা কী উদ্দেশ্যে এসেছিলেন এবং বর্তমানে কোথায় আছেন, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় এক দশক আগে উত্তর রায়কত পাড়া এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেন এই বৃহন্নলারা। প্রথমে ভাড়াবাড়িতে থাকলেও পরবর্তী সময়ে সেই বাড়ি কিনে নেন এবং আশপাশের একাধিক জমি কিনে গড়ে তোলেন একটি প্রাসাদোপম অট্টালিকা। এত কম সময়ে এই বিপুল সম্পত্তির উৎস কী, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ছিল।

বৃহস্পতিবার ভোরে হেস্টিংস ও জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ এবং বিএসএফ ওই কুঠি ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করে। আবাসনে থাকা বৃহন্নলা পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ ও হাতের ছাপ সংগ্রহ করা হয়। ধৃত গুরুমা পিপাসাকে জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বা দেশবিরোধী কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিশদ কিছু বলতে নারাজ পুলিশ প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *