বিদ্যুৎ বিল মেটাতে গিয়েই খালি হলো অ্যাকাউন্ট! মাত্র ৫ মিনিটে গায়েব প্রায় ১ লক্ষ টাকা!

বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার অজুহাতে অভিনব কায়দায় সাইবার প্রতারণার শিকার হলেন এক ব্যক্তি। বিদ্যুৎ দফতরের প্রতিনিধি পরিচয়ে ফোন করে সর্বস্ব লুঠের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। প্রতারকদের নিপুণ জালে পা দিয়ে নিমেষের মধ্যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে প্রায় এক লক্ষ টাকা।
ঠিক কী ঘটেছিল?
ভুক্তভোগী শ্যামাপ্রসাদ বিশ্বাস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত পরশু তাঁর মোবাইলে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনকারী নিজেকে বিদ্যুৎ দফতরের কর্মী দাবি করে জানায় যে, তাঁর বাড়ির বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। শ্যামাপ্রসাদবাবু জানান যে তিনি নিয়মিত ইউপিআই (UPI) অ্যাপের মাধ্যমেই বিল মিটিয়ে দেন। তা সত্ত্বেও প্রতারকরা তাঁকে একটি বিশেষ মেসেজ পাঠায় এবং ব্যাংকিং অ্যাপ চালু করতে বাধ্য করে।
এরপর মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিটের ব্যবধানে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে কেটে নেওয়া হয় মোট ৯৯,৪০০ টাকা। এখানেই শেষ নয়, এর ঠিক পরেই তাঁর ক্রেডিট কার্ড থেকে আরও ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা হাতানোর চেষ্টা চালায় হ্যাকাররা। তবে সময়মতো বিষয়টি টের পেয়ে তিনি দ্রুত ক্রেডিট কার্ডটি ব্লক করে দেওয়ায় বড়সড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পান।
ফোন এখনও হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে!
ঘটনার পরই আতঙ্কিত ওই ব্যক্তি বিদ্যুৎ দফতর, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং তাহেরপুর ও কল্যাণী থানার সাইবার ক্রাইম শাখায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয় ওসির সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তবে এতকিছুর পরেও খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধারের কোনো সুরাহা না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী। তাঁর দাবি, প্রতারণার পর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোনটি হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং একটি রিমোট অ্যাপের মাধ্যমে এখনও ফোনের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই রয়েছে।
শ্যামাপ্রসাদবাবু আক্ষেপের সুরে জানান, সাইবার সচেতনতার প্রচার চললেও প্রতারকদের আধুনিক ও অত্যন্ত চতুর কৌশল সাধারণ মানুষকেও রেহাই দিচ্ছে না। গ্যাস সাবসিডি, ইন্স্যুরেন্স বা ভাতার প্রলোভনের পাশাপাশি এই ধরনের বিল সংক্রান্ত প্রতারণা রোধে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। প্রশাসনের ওপর ভরসা রেখে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও টাকা ফেরতের দাবি জানানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এই ধরনের জালিয়াতি থেকে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।