এঁটেল পোকার কামড়ে নতুন ভাইরাসের আতঙ্কে কাঁপছে চিন! মৃত্যুর হার ১০ থেকে ৩০ শতাংশ শুনেই ঘুম উড়েছে বিশেষজ্ঞদের

চিনের ল্যাবরেটরি থেকে ফের এক নতুন ভাইরাসের সন্ধান মিলেছে, যা নিয়ে গোটা বিশ্বে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। এঁটেল পোকার কামড়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই নতুন ভাইরাস নিয়ে গবেষকদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে। দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘এশিয়ান লংহর্নড টিক নোরোভাইরাস’ নামের এই প্যাথোজেনটি মূলত প্রাণী থেকে মানুষের দেহে সংক্রামিত হয়। ২০১৯ সালে চিনে আবিষ্কৃত করোনাভাইরাসের আতঙ্ক কাটিয়ে ওঠার আগেই এই নতুন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
চিনের ১৫টি প্রদেশে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের উপসর্গ শনাক্ত করা হয়েছে। বেইজিংয়ের স্টেট কি ল্যাবরেটরি অফ প্যাথোজেনস অ্যান্ড বায়োসিকিউরিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি ৩ হাজার ১৬৩ জনের রক্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, বমি ভাব, অ্যাসিডিটি এবং হজমের গুরুতর গোলযোগ দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে ভীতিপ্রদ বিষয় হলো, এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার প্রায় ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যা একে অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীরা নিজে থেকেই সুস্থ হয়ে উঠলেও, অন্য কোনো ভাইরাসের সঙ্গে কো-ইনফেকশন ঘটলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
আমেরিকান সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর টাইলার ইভান্স নিউজউইক ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরীক্ষার ফলাফলকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, এই ভাইরাসের স্ত্রী প্রজাতি সঙ্গম ছাড়াই হাজার হাজার ডিম উৎপাদন করতে সক্ষম, যার ফলে এটি অত্যন্ত দ্রুত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও অনুরূপ উপসর্গযুক্ত রোগী চিহ্নিত হওয়ায় শুরু হয়েছে জোরদার তদন্ত।
তবে আশার কথা হলো, এই ভাইরাসটি করোনাভাইরাসের মতো সরাসরি বায়ুবাহিত হয়ে বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। আক্রান্ত এঁটেল পোকার কামড় বা সরাসরি সংস্পর্শে এলেই কেবল এটি মানবদেহে প্রবেশ করে। সেই কারণে এখনও পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে কোনো সর্বজনীন লকডাউন বা কঠোর আন্তর্জাতিক সতর্কতা জারি করা হয়নি। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই প্রাণঘাতী ভাইরাসটিকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করতে এবং সংক্রমণ রোধ করতে খুব শীঘ্রই বিশেষ টিকা বাজারে আনার কাজ চলছে।