নবান্নে রুদ্ধদ্বার বৈঠক! শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি পাঁচ এনসিপিআই সাংসদ, অন্দরে কী নিয়ে চলল আলোচনা?

পুরভোটের ঠিক আগে নবান্নে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার রাজ্যের প্রশাসনিক হেডকোয়ার্টারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন এনসিপিআই-এর পাঁচ সাংসদ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, জগদীশ বসুনিয়া, মালা রায় এবং জুন মালিয়া। ঠিক ভোটের মুখে এই দীর্ঘ বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে মূলত সাংসদরা নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন। কোন কোন প্রকল্প চালুর পথে বাধা আসছে, কোথায় সরকারি সাহায্যের প্রয়োজন এবং আগামী দিনে কী ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে বিশদে আলোচনা হয়। তবে এই প্রশাসনিক আলোচনার পাশাপাশি বৈঠকের আরেকটি দিক নিয়েও শোরগোল শুরু হয়েছে।
এদিন নবান্নে এসেই দলের অন্দরের কোন্দল নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে নিশানা করে আইটি সেলের পক্ষ থেকে লাগাতার আপত্তিকর মন্তব্য ও অসভ্য গালাগাল দেওয়ার অভিযোগ জানান তিনি। সূত্রের খবর, মূলত তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করেই এই তীব্র আপত্তি তোলেন কাকলি।
বৈঠক শেষে নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি পোস্ট করে কাকলি লেখেন, ফেসবুক ও টুইটারে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে আইটি সেল থেকে যে ধরনের আক্রমণ করা হচ্ছে, তার তালিকা তিনি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
নির্বাচনের প্রাক্কালে একদিকে প্রশাসনিক উন্নয়নমূলক বৈঠক এবং অন্যদিকে দলের অন্দরে সাইবার আক্রমণের অভিযোগ—এই জোড়া ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ অনেকটাই বেড়েছে। কাকলির অভিযোগের পর প্রশাসনের তরফ থেকে ঠিক কী পদক্ষেপ করা হয়, এখন সেটাই দেখার।