শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে দলের দায়িত্ব কে নেবেন? গুঞ্জন উঠতেই চরমে কোন্দল!

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তীব্র রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এর মাঝেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা ভবিষ্যৎ কান্ডারি নির্বাচন নিয়ে নতুন করে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং কোন্দলের খবর সামনে আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার ঘিরে এই জল্পনা চরম আকার ধারণ করেছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাম উল্লেখ করার পরই দলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের সুর শোনা যাচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ও নীতিনির্ধারকদের একাংশের দাবি, অতীতে বহু বছর দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় থাকা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে শেখ সেলিমকে ঘিরে দলের মধ্যে আস্থার বড় সংকট রয়েছে। যদিও দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতারা এই ধরনের খবরকে সম্পূর্ণ ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন যে, দলের গঠনতন্ত্র মেনেই সবকিছু চলছে এবং শেখ হাসিনাই সভানেত্রী পদে আছেন ও থাকবেন।
ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগের লেটার হেড প্যাডে জাল স্বাক্ষর ও নাম ব্যবহার করে একটি ভুয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছিল যে, ডিসেম্বরে দেশে ফেরা উপলক্ষে শেখ সেলিমকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও দলের দপ্তর সম্পাদক তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অতীতেও ১৯৭৫ ও ২০০৭ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময় আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব নিয়ে বড় ধরনের বিভাজন এবং কোন্দল তৈরি হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘ নির্বাসন ও ক্ষমতার পালাবদলের পর দলীয় নেতৃত্বের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ভবিষ্যতে বড় আকার ধারণ করতে পারে বলেই আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলের।