মৃতদেহ নিয়ে নোংরা রাজনীতি করবেন না! রাহুল গান্ধীকে সরাসরি কড়া বার্তা দিলেন ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান

গুলজার সিংয়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পাঞ্জাবের রাজনীতি। মৃত ব্যক্তির পরিবারকে নিয়ে রাজনীতি না করার জন্য কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে সরাসরি তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান এবং আপ আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। পাঞ্জাবের সাংরুর জেলার তুরবানজারা গ্রামে ঘটা এই মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল ওই ঘটনায়?
পাঞ্জাবের সাংরুর জেলার তুরবানজারা গ্রামে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমার একটি জনসভায় গুলজার সিং নামে এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে এলাকায় মাদক বিক্রি বন্ধ করার দাবি তুলে প্রশ্ন করেন। অভিযোগ ওঠে, এই প্রশ্ন করার পরেই তাঁকে তীব্র হেনস্থা করা হয় এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার জন্য চরম চাপ সৃষ্টি করা হয়। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে গুলজার সিং বিষপান করেন। পরবর্তীতে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে করা একটি ভিডিওতে তিনি অর্থমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার জেরে গ্রাম পঞ্চায়েত ও সরপঞ্চের মাধ্যমে চরম চাপের মুখে পড়ার কথা জানিয়ে যান। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে পাঁচজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেছে।
রাহুল গান্ধীর তীব্র আক্রমণ ও অভিযোগ:
এই মৃত্যুর পরেই আপ সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করেন যে, পাঞ্জাবের বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললেই তাঁকে হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। গুলজার সিং তাঁর ছেলেকে মাদকের কবলে পড়তে দেখে সরাসরি অর্থমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছিলেন। কিন্তু সরকারের জবাবদিহি করার বদলে ওই ব্যক্তিকে এমন অপমান করা হয় যে তিনি চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। রাহুল দাবি জানান, মুখ্যমন্ত্রী যেন অবিলম্বে অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে এফআইআর-এ মন্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।
পাল্টা জবাব দিলেন ভগবন্ত মান:
রাহুল গান্ধীর এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, মৃত ব্যক্তির গ্রামে গিয়ে কংগ্রেস নেতারা রাজনীতি করার চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা তাঁদের তাড়িয়ে দিচ্ছেন। ক্যাপশনে মুখ্যমন্ত্রী সাফ লিখেছেন, “রাহুল গান্ধী জি, মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করবেন না। পাঞ্জাবিরা এই ধরনের রাজনীতি পছন্দ করে না।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাঞ্জাবের বিগত সরকারগুলিকে রাজ্যের মাদক সমস্যার জন্য দায়ী করে তিনি হুংকার দিয়েছেন যে, আম আদমি পার্টির সরকারের আমলে কোনো মাদক পাচারকারীকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।