মিড ডে মিলের মাংস ঘিরে রণক্ষেত্র জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল! প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে রক্তারক্তি কাণ্ড

শিক্ষক দিবসের বিশেষ মিড ডে মিলকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নিল দেড়শো বছরের ঐতিহ্যবাহী জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল। দশম শ্রেণির ছাত্রদের ওপর প্রধান শিক্ষকের প্রহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নজিরবিহীন ভাঙচুর ও হাতাহাতি। প্রধান শিক্ষকের ঘরের জানলা-দরজার কাচ গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে মাটিতে ফেলে পেটানোর অভিযোগ উঠল ক্ষুব্ধ ছাত্রদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত কোতোয়ালি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ মোতায়েন করতে হয়।
মাংস খাওয়ানো ঘিরে গোলমালের সূত্রপাত:
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ছোট পড়ুয়াদের জন্য মিড ডে মিলে বিশেষ মাংসের আয়োজন করা হয়েছিল। খাবার ঘরের কাছে দশম শ্রেণির কিছু ছাত্র গিয়ে দাঁড়ালে প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুই সেখানে হাজির হন। অভিযোগ, ঘরের ভেতর না ঢোকা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক আচমকাই ছাত্রদের বেধড়ক মারধর শুরু করেন।
পাল্টা মারে রক্তাক্ত প্রধান শিক্ষক, নামল র্যাফ:
মারধরের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ছাত্ররা একজোট হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘মাংস চুরির’ পাল্টা অভিযোগ তুলে তাকে পেটাতে শুরু করে তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করতে গেলে চরম বাধার মুখে পড়ে। উত্তেজিত ছাত্ররা পুলিশের গাড়ির সামনে রাস্তায় শুয়ে ও বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে বোঝানোর পর পুলিশ আহত ছাত্র ও প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বহুদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ:
স্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে অভিভাবকদের দাবি, এই ঘটনা স্রেফ একদিনের নয়। প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুইয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ডায়েরি বিক্রি ও মিড ডে মিলের অর্থ আত্মসাৎ সহ একাধিক দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ ছিল। স্কুলের শিক্ষক বাপ্পা চক্রবর্তী আক্ষেপ করে বলেন, “১৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী স্কুলের ইতিহাসে এটি একটি কলঙ্কিত দিন। বর্তমান প্রধান শিক্ষকের আমলে স্কুলের সম্মান নষ্ট হয়েছে।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে অবিলম্বে অপসারণের দাবি তুলেছেন অভিভাবকরা। এদিনের উদ্ভূত পরিস্থিতি ও মারধরের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনো মন্তব্য করতে চাননি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক।