৫ অক্টোবরের আগেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে মোটা টাকা! নবান্নের মাস্টারস্ট্রোকে খুশির হাওয়া

দুর্গাপুজোর দিনগণনা শুরু হতেই লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের ঘরে বড় সুখবর নিয়ে এল রাজ্য সরকার। উৎসবের মরসুমে কেনাকাটা ও খরচের কথা মাথায় রেখে উত্তরবঙ্গের পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের চা-বাগান শ্রমিকদের জন্য সরাসরি ২০ শতাংশ হারে পুজো বোনাস দেওয়ার নির্দেশ জারি করল নবান্ন।
৫ অক্টোবরের মধ্যেই অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে টাকা: উত্তরবঙ্গের অতিরিক্ত শ্রম কমিশনারের পক্ষ থেকে জারি করা ওই বিশেষ নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের সমস্ত চা-বাগানকে কর্মীদের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হারে বোনাস প্রদান করতে হবে। দুর্গোৎসব শুরুর আগেই, অর্থাৎ আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে এই বোনাসের সম্পূর্ণ অর্থ শ্রমিকদের হাতে তুলে দেওয়ার স্পষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের আগেই নবান্নের বিশেষ পদক্ষেপ: পাহাড় ও সমতলের চা-বাগান মালিক সমিতি এবং শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে আগামী ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সেই আলোচনার আগেই রাজ্য শ্রম দপ্তর সরাসরি এই নির্দেশিকা জারি করে শ্রমিকদের পাওনা নিশ্চিত করার পথ সুগম করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, যেসব কর্মীর বেতন নির্ধারিত সীমার ওপরে থাকার কারণে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারত, তাঁদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রেখে বোনাস নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মালিকপক্ষের উদ্বেগ ও শ্রমিক সংগঠনগুলির বার্তা: নবান্নের এই সিদ্ধান্তকে পাহাড়ি অঞ্চল থেকে শুরু করে সমতলের প্রায় ৫ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ ও তাঁদের পরিবার একবাক্যে স্বাগত জানিয়েছেন। যদিও চা-শিল্পের বর্তমান মন্দা পরিস্থিতি ও চায়ের মূল্যবৃদ্ধির অভাবের কথা তুলে ধরে কিছু চা-বাগান মালিক সমিতি এই নির্দিষ্ট হারের বোনাস প্রদানকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দাবি, নির্দেশিকা জারির পর এবার সরকার যেন নজরদারি রেখে প্রতিটি বাগানের শ্রমিকদের হাতে নির্ধারিত সময়েই পুরো বোনাস পৌঁছানো নিশ্চিত করে।