হড়পা বানের তাণ্ডবে বাবাকে হারাল নবম শ্রেণির বিনেশ! শোক ভুলেই জ্বালানির কাঠ কুড়োচ্ছে প্রলয়বিধ্বস্ত নেপালে

মাথার চুল কামানো, চোখে এক বিষাদময় শূন্য দৃষ্টি। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উনুনের জ্বালানির জন্য কাঠ কুড়িয়ে নিচ্ছে নবম শ্রেণির ছাত্র বিনেশ তামাং। পাশ দিয়েই গিয়েছে পাসাং-লাহমু জাতীয় সড়ক। গত ২৬ আগস্টের ভয়াল হড়পা বান নেপালের একাধিক যোগাযোগের পথ মুছে দেওয়ার পাশাপাশি কেড়ে নিয়েছে বিনেশের গাড়িচালক বাবাকেও। সংসারের উপার্জনের একমাত্র মানুষটিকে হারিয়ে এখন গোটা পরিবারের দায়িত্ব এই কিশোরের কাঁধে। বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতে পড়াশোনা না ছেড়েই শোক সামলে উঠে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করেছে বিনেশ।

‘চোখের সামনে জাতীয় সড়ককে গিলে খেল নদী!’

নেপালের গ্রেকুঠুর এলাকার ফুলওয়াড়ির বাসিন্দা শিবরাজ সামন্ত জানান সেই অভিশপ্ত সকালের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। একসময় আফগানিস্তানে ওয়েল্ডারের কাজ করা শিবরাজ বহু সংঘাত দেখলেও প্রকৃতির এই তাণ্ডবরূপ জীবনে প্রথম প্রত্যক্ষ করলেন। তাঁর কথায়, “নদীর দিকে তাকাতেই চোয়াল শক্ত হয়ে গিয়েছিল। উন্মাদ জলরাশি নিজের বুকে ঘরবাড়ি, বড় বড় পাথর আর মানুষ নিয়ে ধেয়ে আসছিল। চোখের সামনে বড় একটা রাস্তা সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল।”

মৃতের সংখ্যা ১৫০০ ছাড়িয়েছে, আশঙ্কাজনক পরিসংখ্যান:

নেপালজুড়ে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১৫০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। তবে উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ শেষ হলে এবং দুর্গম তীর্থক্ষেত্র গোসিকুন্দা হ্রদ এলাকার প্রকৃত চিত্র সামনে এলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বহু গুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই এলাকায় নেপাল ও ভারতের হাজার হাজার পুণ্যার্থী অবস্থান করছিলেন, যাদের বড় অংশ এখনও নিখোঁজ।

অল্পের জন্য অলৌকিক বেঁচে ফেরা:

ত্রিশূল জাতীয় সড়কের কাছে মাটি থেকে খানিক উঁচুতে থাকা চায়ের দোকান চালাতেন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র নিশ্চল কাঠিওয়াড়া। নদী থেকে ভয়ঙ্কর গর্জন শুনে একটি স্কুলের বাসের বাচ্চাদের তড়িঘড়ি সতর্ক করে উঁচু টিলার দিকে নিয়ে যান তিনি। নিশ্চল ও তাঁর পরিবার প্রাণ বাঁচাত পারলেও জলের তোড়ে ভেসে গেছে তাঁদের উপার্জনের যাবতীয় সামগ্রী। চারিদিকে শুধু ধ্বংস আর হাহাকার। প্রকৃতির এই নির্মম কোপ নেপালের একের পর এক পরিবারকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মুখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *