ফ্রিজে ঘুরে বেড়াচ্ছে আরশোলা! পুজো আসার আগেই কলকাতার ৪০টি নামী রেস্তোরাঁর লাইসেন্স বাতিল

দুর্গাপুজোর আনন্দে মেতে ওঠার আগেই তিলোত্তমার নামী-দামি রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানগুলির আসল কঙ্কালসার চেহারা সামনে এল। স্বাস্থ্যকর ও তাজা খাবারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কীভাবে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে খেলা করা হচ্ছিল, পুরসভার অভিযানে বেরিয়ে এল তারই বিস্ফোরক তথ্য। ‘ফুড সেফটি সপ্তাহ’ চলাকালীন শহরের একাধিক নামী রেস্তোরাঁ ও শপিং মলের ফুড কোর্টে অভিযান চালিয়ে মোট ৪০টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স বাতিল (সাসপেন্ড) করল খাদ্য দপ্তর।

১২২৪ কেজিরও বেশি বাসি খাবার উদ্ধার: পুরসভার আধিকারিকেরা রবিবার থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তের শপিং মল, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট চত্বর এবং সল্টলেকের ফুড কোর্ট ও রেস্তোরাঁগুলিতে অতর্কিতে হানা দেন। রান্নাঘরে ঢুকে ফ্রিজে মজুত কাঁচামাল, মশলা ও ফ্রোজেন খাবারের গুণমান পরীক্ষা করা হয়। এই অভিযানে মোট ৫৯২টি জায়গায় পরীক্ষা চালিয়ে প্রায় ১২২৪ কেজি পচা, বাসী ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যসামগ্রী উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

Wikipedia+ 1

ফ্রিজে আরশোলা, রেস্তোরাঁয় নোংরা পরিবেশ: অভিযানের অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও চোখ খুলে দেওয়ার মতো বলে ব্যাখ্যা করেছেন পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে। তিনি জানান, শহরের বড় বড় নামী মিষ্টির দোকানেও ন্যূনতম পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা হচ্ছিল না। এমনকি ফ্রিজের ভেতর আরশোলা ঘুরে বেড়াতেও দেখেছেন আধিকারিকেরা।

Wikipedia

স্মিতা পাণ্ডে বলেন, “আগে লাইসেন্স বাতিলের মতো কড়া পদক্ষেপ সচরাচর নেওয়া হতো না। তবে এবার আমরা কড়া মনোভাব নিয়ে কাজ করছি। স্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্নতাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। নিয়ম মেনে কাজ করলে তবেই ঝুলন্ত লাইসেন্স ফেরানো হবে।”

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা ও ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ: রাজ্যে শুরু হওয়া ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’ উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ফ্ল্যাট জালিয়াতি থেকে শুরু করে খাবার বা মাছে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও রঙের প্রয়োগ—সব ধরণের অসৎ কারবারের বিরুদ্ধে রাজ্য জুড়ে খাদ্যসুরক্ষা দপ্তরের বিশেষ নজরদারি চলছে। পুজোয় সাধারণ মানুষ যাতে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ খাবার পান, তা নিশ্চিত করতে পুরসভা এই ধরণের অভিযান আগামী দিনেও চালিয়ে যাবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

Wikipedia

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *