“আমরা কি ছাত্রদের সত্যিই আশ্রয় দিতে পেরেছি?” দিল্লির মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সরকারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ সোনু সুদ!

দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতনে একটি বহুতল পিজি (পেয়িং গেস্ট) ভবন ধসে পড়ে অন্তত ৭ জন শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনায় সরব হলেন অভিনেতা সোনু সুদ। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত হয়ে সমাজমাধ্যমে একটি আবেগঘন ও তীক্ষ্ণ বার্তা প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সাথে দেশের রাজধানীসহ সর্বত্র পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের সুব্যবস্থা করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন অভিনেতা।
ফোন হাতে কংক্রিটের নিচে বাঁচার আকুতি: স্থানীয় বিধায়ক অনিল শর্মা নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্ঘটনাকবলিত ভবনটিতে শিক্ষার্থীদের জন্য পেয়িং গেস্টের ব্যবস্থা ছিল। দুর্ঘটনার সময় বহুতলের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী কংক্রিটের নিচ থেকেই ফোনের মাধ্যমে সাহায্যের জন্য মরিয়া আকুতি জানান। এই শিউরে ওঠা মানবিক সংকটের কথা উল্লেখ করে সোনু সুদ জানান, প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ তরুণ শিক্ষার্থী নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে ঘর ছেড়ে বড় শহরে আসে। কিন্তু আমরা কি তাদের ন্যূনতম নিরাপত্তাটুকুও দিতে পারছি?
পরিসংখ্যান তুলে ধরে সোনুর বিস্ফোরক প্রশ্ন: এক উদ্বেগজনক হিসাব তুলে ধরে সোনু সুদ জানান, কেবল দিল্লিতেই প্রায় ৭ লাখ বাইরের শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। অথচ তাদের জন্য সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক হস্টেলে আসন রয়েছে মাত্র ৩০ হাজারেরও কিছু বেশি। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৩১ জন ছাত্রের মধ্যে মাত্র ১ জন নিরাপদ হস্টেলে থাকার সুযোগ পান। বাকিদের বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ বেসরকারি পিজিতে আশ্রয় নিতে হয়।
সরকারের কাছে বিশেষ প্রস্তাব: এই আবাসন সংকট দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সোনু সুদ কিছু বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আশেপাশে থাকা অব্যবহৃত সরকারি জমিতে দ্রুত নিরাপদ ও সাশ্রয়ী ছাত্রাবাস গড়ে তোলা জরুরি। এছাড়া ক্যাম্পাসের ভেতরে অতিরিক্ত আবাসন তৈরির আইনি অনুমতি দেওয়া উচিত। ক্যাম্পাসের সীমানায় নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করা গেলে কেবল শিক্ষার্থীদের সুরক্ষাই মিলবে না, দূর-দূরান্তে থাকা অভিভাবকরাও আশ্বস্ত হবেন এবং ভবিষ্যতে এমন করুণ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থেকে বহু তাজা প্রাণ রক্ষা পাবে।