“কড়ায়-গণ্ডায় হিসেব নেব, একজনকেও ছাড় নয়!” জিটিএ-র দুর্নীতি নিয়ে উত্তরকন্যায় দাঁড়িয়ে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি

পাহাড়ের গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ে এবার সরাসরি রণংদেহী মূর্তি ধারণ করা হলো। শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় আয়োজিত এক প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জিটিএ-তে ঘটা কোনো দুর্নীতিকেই ঢাকাচাপা দিতে দেওয়া হবে না। আর্থিক জালিয়াতির তদন্ত শেষ হলেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে দ্রুত গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেবল শাস্তিই নয়, জনগণের করের আত্মসাৎ হওয়া টাকাও কড়ায়-গণ্ডায় ফেরত আদায় করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতির নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি: জিটিএ-র বিরুদ্ধে ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন আইপিএস আধিকারিক কালিয়াপ্পন জয়রমন। তারা ইতিমধ্যেই পাহাড় ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করে তদন্তের কাজ জোরকদমে শুরু করেছেন।
নজরে শিক্ষক নিয়োগ ও উন্নয়ন পর্ষদের অর্থ লোপাট: জিটিএ-র অধীনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে:
-
৪ শতাধিক শিক্ষক নিয়োগে চরম অস্বচ্ছতা ও অনিয়ম।
-
‘অম্রুত’ পানীয় জল প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দে অসংগতি।
-
লেপচা ও তামাং বোর্ডসহ পাহাড়ের মোট ১১টি উন্নয়ন পর্ষদের কোটি কোটি টাকার সরকারি তহবিল তছরুপের অভিযোগ।
পাহাড়বাসীকে বিশেষ আশ্বাস: কালিম্পং তথা গোটা পাহাড়ের সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, পাহাড়ের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও অর্থ সুরক্ষায় প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। “নিশ্চিন্তে থাকুন, যারা পাহাড়ের উন্নয়ন স্তব্ধ করে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে, তাদের একজনকেও রেয়াত করা হবে না।”
কোষাগারের ক্ষতিপূরণ আদায়ের বার্তা: এই বার্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারের পরিকল্পনা। শুধু অপরাধীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপই নয়, বেআইনিভাবে হাতিয়ে নেওয়া সরকারি টাকা কিংবা জনগণের দেওয়া করের টাকা কীভাবে অভিযুক্তদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়েও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছে প্রশাসন।
পাহাড়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জিটিএ-র আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে জলঘোলা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। সেই আবহে উত্তরকন্যার এই কড়া অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।