আকাশে উড়ার আগে রেডিওতে ভেসে এলো ‘পপস?’ ডাক! বিমানবন্দের ককপিট থেকে ভাইরাল বাবা-মেয়ের চরম মজার আড্ডা

বাবা ও মেয়ে দুজনই পেশায় বাণিজ্যিক বিমানের পাইলট। তবে বিমানবন্দরে কাজের ব্যস্ততার মাঝে যে রানওয়েতে রেডিও বার্তার মাধ্যমে হঠাৎ দেখা হয়ে যাবে, তা হয়তো তাঁরা ঘুমেও ভাবেননি! আমেরিকার এক বিমানবন্দরে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (ATC) সঙ্গে নিয়মমাফিক যোগাযোগ করতে গিয়েই আচমকা একে অপরের কণ্ঠস্বর শুনতে পান তাঁরা। তারপরই পেশাদার রুটিন বার্তার ফাঁকে ককপিটেই জমে ওঠে বাবা-মেয়ের এক চমৎকার ও মজার পারিবারিক মুহূর্ত।

কীভাবে ঘটলো এই ঘটনা? ঘটনাটি ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের পাইলট হিসেবে বিমান উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কেন্ট কাটনিক। ঠিক একই সময়ে কাছাকাছি অন্য একটি রানওয়েতে নিজের বিমান নিয়ে ওড়ার প্র প্রহর গুনছিলেন তাঁর মেয়ে কেনি কাটনিক।

রেডিও তরঙ্গে কাজ করার সময় হঠাৎই চেনা কণ্ঠস্বর শুনতে পান কেন্ট। ওপার থেকে মেয়ে কেনি হঠাৎ জিজ্ঞেস করে ওঠেন, “পপস (বাবা)?” ককপিটে মেয়ের গলা চিনতে পেরে অবাক হন কেন্ট। এরপর রেডিওতেই কথা শুরু হয় দুজনের। কেনি জানান, তিনি রানওয়েতে অপেক্ষমাণ এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশে উড়বেন। একই সাথে বাবাকে নিরাপদ উড্ডয়নের শুভেচ্ছা জানান তিনি।

“মেয়ে তো ঘর ছেড়েছে, কিন্তু…”: বাবা-মেয়ের এই মিষ্টি ও মজার কথোপকথন শুনে কেন্টের সঙ্গে থাকা সহ-পাইলট উৎসুক হয়ে জানতে চান, “মেয়ে পাইলট! আপনি তো খুবই গর্বিত বাবা?” জবাবে রসিক কেন্ট হাসতে হাসতে বলেন, “হ্যাঁ, কিছুটা!”

এরপর কথা প্রসঙ্গে ওঠে মেয়ে কেনির ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গ। কেন্ট হাসতে হাসতে মজা করে বলেন, “মেয়ে এখন আর বাড়িতে থাকে না, নিজের মতো থাকে। কিন্তু এখনও আমার মোবাইল ফোনের ফ্যামিলি রিচার্জ প্ল্যান ব্যবহার করছে!”

বাবার এই মন্তব্যে সহ-পাইলট যোগ করে বলেন, “যতক্ষণ না বিয়ে হচ্ছে, ওকে আপনার ফোন প্ল্যানেই থাকতে দিন।” ওপার থেকে রেডিওতে যুক্ত হয়ে মেয়ে কেনি সঙ্গে সঙ্গেই জবাব দেন, “আমি তো এখনও অবিবাহিত!”

সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল: এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই সুমিষ্ট কথোপকথনের অডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করতেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আকাশছোঁয়া দায়িত্ব পালনের মাঝেও বাবা-মেয়ের এই স্বতঃস্ফূর্ত খুনসুটি, ভালোবাসা ও মিষ্টি মুহূর্ত নেটিজেনদের মন জয় করে নিয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, কাজের জায়গা যতই গম্ভীর হোক না কেন, পারিবারিক সম্পর্কের মধুরতার জন্য কোনো নির্দিষ্ট জায়গার প্রয়োজন পড়ে না—রানওয়ের রেডিওতেও তা ফুটে উঠতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *