পোকা কামড়ায়নি, আসল সত্য অন্য! প্রভাসের সেটে অসুস্থতা নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা রাজেশ শর্মা

দক্ষিণী সুপারস্টার প্রভাসের সঙ্গে শুটিং করতে গিয়ে বিষাক্ত পোকার কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা রাজেশ শর্মা—কয়েক দিন ধরে এমন খবরেই উত্তাল ছিল বিনোদন জগত। এমনকি দাবি করা হয়েছিল যে, রামোজি ফিল্ম সিটিতে শুটিং চলাকালীন ঘন জঙ্গলে কোনো বিষাক্ত মাকড়সা বা পোকার কামড়েই তাঁর পায়ে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়ায়। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে এবার এই ঘটনার নেপথ্যের আসল সত্য প্রকাশ্যে আনলেন খোদ অভিনেতা।

একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজেশ শর্মা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পোকার কামড় সংক্রান্ত খবরটি সম্পূর্ণ ভুয়ো। প্রভাসের আসন্ন ছবি ‘Fauzi’-র সেটে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এমনকি এর জন্য প্রভাস কিংবা তাঁর ছবির ইউনিটকে কোনোভাবেই দায়ী করা চলে না, কারণ তাঁরা অত্যন্ত সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব দেখিয়েছিলেন।

তাহলে আসল সমস্যা কী ছিল? অভিনেতা জানান, তাঁর ডান পায়ে আগে থেকেই ত্বকের একটি সমস্যা ছিল। এর পাশাপাশি তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা বা ডায়াবেটিস মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু শুরুতে বিষয়টি তিনি সেভাবে গুরুত্ব দেননি। হায়দরাবাদ থেকে কলকাতায় ফেরার পরই মূলত পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে এবং তাঁকে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের পোস্ট নিয়ে কী বললেন রাজেশ? অভিনেতার অসুস্থতার খবর প্রথম প্রকাশ্যে এনেছিলেন তাঁর ঘনিষ্ট বন্ধু ও অভিনেত্রী সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি একটি পোস্টে দাবি করেছিলেন, রামোজি ফিল্ম সিটিতে শুটিংয়ের পর কোনো বিষাক্ত পোকার কামড়েই রাজেশ অসুস্থ হয়েছেন এবং শারীরিক অবনতি সত্ত্বেও তিনি বিমানে কলকাতা ফেরেন। পরে অবশ্য সেই পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে রাজেশ জানান, সুদীপা অত্যন্ত কাছের বন্ধু এবং অতিরিক্ত উদ্বেগ থেকেই তিনি ওই পোস্ট করেছিলেন। তবে তাঁকে সম্পূর্ণ ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল, যার ফলেই পোকা কামড়ানোর মিথ্যে গল্পটি চাউর হয়ে যায়।

অসুস্থতার ধাক্কা কাটিয়ে এখন অনেকটাই সুস্থ আছেন রাজেশ শর্মা। তাঁর চিকিৎসা সফল হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার পথে রয়েছেন। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব শীঘ্রই, মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই ফের কাজে ফেরার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে এই গুণী অভিনেতার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *