তৃণমূলের অন্দরে চরম কোন্দল ও ধোঁয়াশা! সুযোগ বুঝে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বড় হুংকার বামেদের

উপনির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হতেই ফের রাজনৈতিক উত্তাপ চড়তে শুরু করেছে রাজ্য রাজনীতিতে। শাসক থেকে শুরু করে বিরোধী—সব শিবিরই এখন কোমর বেঁধে ময়দানে নামার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। একদিকে যখন বিজেপি আগেভাগেই নিজেদের রণকৌশল সাজিয়ে ফেলেছে, অন্যদিকে ভোট ঘোষণা হয়ে গেলেও প্রার্থী এবং দলের প্রতীক নিয়ে চরম ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। আর ঠিক এই সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়ে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে এককভাবে জোরদার লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়ে দিল বাম শিবির।

আজ, মঙ্গলবার এক স্পষ্ট বার্তায় সিপিআইএম নেতা তথা ডোমকলের বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রাণা জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁদের দল ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য ময়দানে নেমে পড়েছে। খুব শীঘ্রই প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা হবে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “বামেরা জোরালো লড়াই দেবে। কারণ মাঝের কাউকে মানুষ আর বিশ্বাস করছে না। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর থেকেও মানুষের ভরসা উঠে গেছে। ওঁরা এলাকায় যেতে পারবে না, শুধু সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলে আর এখানে এসে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বসে ফিশফ্রাই খাচ্ছে।”

তৃণমূলের অন্দরে প্রতীক ও প্রার্থী সংকট: বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই কার্যত দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল এবং অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূল—দুই শিবিরের এই লড়াই এখন আদালত থেকে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়িয়েছে। ভোটের আগে দলের আসল ‘প্রতীক’ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক যার পক্ষে যাবে না, নির্বাচনী বিধির কারণে তাঁদের আদালতে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে। এমনকি নতুন প্রতীক নিয়ে লড়লেও দ্রুত আইনি অনুমতি পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে, যার জেরে তাঁদের নির্দল হিসেবে ময়দানে নামতে হতে পারে। পাশাপাশি, প্রার্থী বাছাই নিয়েও উভয় শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি রয়েছে। কালীঘাটের দিকে নন্দীগ্রামে কিছুটা কর্মী-সমর্থক থাকলেও পরিচিত মুখেরা লড়তে অনীহা প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে, নব্য তৃণমূলে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রিক শক্ত ভিত্তি না থাকলেও রেজিনগরে দুই শিবিরেরই কিছুটা উপস্থিতি রয়েছে। তবে প্রতীকের ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত তৃণমূলের এই লড়াইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে রয়েছে।

বামেদের অন্য ইস্যু ও অবস্থান: তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার আঁচ পেতেই রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে সর্বশক্তি দিয়ে লড়ার বার্তা দিয়ে রাখলেন বাম নেতৃত্ব। পাশাপাশি, ডোমকল পুরসভায় দীর্ঘদিন ভোট না হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান মুস্তাফিজুর রহমান। অন্যদিকে, দুর্গাপুজো এবং ডিজে প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে ডিজে বন্ধ করা ভালো পদক্ষেপ, তবে তা কতটা কার্যকর হয় সেটাই দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে উপনির্বাচনের ডঙ্কা বাজতেই বাংলার রাজনীতিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের পারদ এখন চড়চড়িয়ে চড়ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *