Indian Railways: পণ্য পরিবহণে ঐতিহাসিক বিপ্লব! ভারতীয় রেলের এই মেগা প্রজেক্ট বদলে দিচ্ছে ভারতের লজিস্টিকস সেক্টর

ভারতের ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর (DFC) নেটওয়ার্কের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় দেশের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন ও ঐতিহাসিক যুগের সূচনা হয়েছে। ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড (DFCCIL)-এর নির্মিত এই সুবিশাল নেটওয়ার্ক দেশের লজিস্টিকস মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে দিতে শুরু করেছে।
মেগা প্রকল্পের বিশদ বিবরণ: ২,৮৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেগা নেটওয়ার্কের দুটি প্রধান অংশ রয়েছে—পাঞ্জাবের নিউ সাহনেওয়াল থেকে বিহারের নিউ সোননগর পর্যন্ত ১,৩৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর’ এবং উত্তরপ্রদেশের নিউ দাদরি থেকে মহারাষ্ট্রের নিউ জওহরলাল নেহরু পোর্ট অথরিটি (JNPA) পর্যন্ত ১,৫০৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ওয়েস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর’। ২০২৬ সালের মার্চের শেষভাগে বৈতরণা থেকে জেএনপিএ পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে সমগ্র ওয়েস্টার্ন করিডোরটি পুরোপুরি চালু হয়ে গেছে, যা পশ্চিম উপকূলীয় বন্দরগুলির সঙ্গে পণ্য পরিবহণের যোগাযোগ আরও বহুগুণ সুগম করেছে।
রেকর্ড পরিমাণ পণ্য পরিবহণ ও কার্যকারিতা: ভারতীয় রেলের মোট নেটওয়ার্কের ৪ শতাংশেরও কম অংশ ব্যবহার করে এই করিডোরগুলি বর্তমানে দেশের মোট রেল পণ্য পরিবহণের ১৪ শতাংশেরও বেশি পরিচালনা করছে। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৫.২১ লক্ষ মালবাহী ট্রেনের যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৪৩৫টি মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পণ্য পরিবহণের পরিমাণ একলাফে ১৩.৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রীবাহী ট্রেনের রুট থেকে মালবাহী ট্রেনগুলিকে আলাদা করার ফলে প্রচলিত রেল নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত ক্ষমতা তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত পণ্য পরিবহণ ও উন্নত সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বাণিজ্যে এর প্রভাব: এই উন্নত পরিকাঠামো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শিল্প সংস্থা, ব্যবসায়ী এবং কৃষকদের জন্য উৎপাদন কেন্দ্র, ভোক্তা বাজার ও বন্দরের সঙ্গে এক শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করছে। বিশেষ করে চা, উদ্যানজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং অন্যান্য সময়-সংবেদনশীল পণ্যের দ্রুত পরিবহণে এর সুফল মিলবে। পাশাপাশি, গতি শক্তি কার্গো টার্মিনাল, মাল্টি-মোডাল লজিস্টিকস সুবিধা এবং ডিজিটাল ফ্রেইট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মতো আধুনিক পরিষেবার হাত ধরে সার্বিকভাবে লজিস্টিকস খরচ, সড়কে যানজট এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হচ্ছে। এই নেটওয়ার্ক উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।