ছাত্রনেত্রীর ওপর এনএসএ প্রয়োগ কোণঠাসা করল ডিএম-কে! এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে বড় স্বস্তি পেলেন আকৃতি

নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভের সময় ছাত্রনেত্রী আকৃতি চৌধুরীর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ) বা NSA প্রয়োগের ঘটনায় বড়সড় আইনি ধাক্কা খেলেন নয়ডার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেধা রূপম। এলাহাবাদ হাইকোর্ট এই মামলায় ১৫ পৃষ্ঠার এক রায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পাঁচটি বড় ভুল চিহ্নিত করেছে। বিচারপতি অতুল শ্রীধরন এবং অচল সচদেবের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ডিএম তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজন সাধারণ মেয়েকে ভয় দেখানোর জন্যই এই কঠোর আইন প্রয়োগ করেছিলেন।

বাংলার বাসিন্দা এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (DU) ছাত্রী আকৃতি চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, শ্রমিক আন্দোলনের সময় তিনি হিংসায় উসকানি দিয়েছিলেন। তবে আদালতের রায়ে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, প্রশাসনের সেই অভিযোগের সপক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণ ছিল না। হাইকোর্ট তার রায়ে নয়ডার ডিএম-এর কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করে ৫টি মূল অসঙ্গতি তুলে ধরেছে:

১. অবৈধ আটকের অভিযোগ: আদালতের নথিতে বলা হয়, আকৃতিকে ১১ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হলেও পুলিশের তরফে গ্রেপ্তারি দেখানো হয় ১২ এপ্রিল। অর্থাৎ তিনি এক দিন অবৈধ হেফাজতে ছিলেন, অথচ ১৩ এপ্রিল নয়ডায় যখন সহিংসতা ছড়ায়, তখন তিনি পুলিশি হেফাজতেই ছিলেন।

২. নথিপত্রে গরমিল: ১২ এপ্রিল সকাল ১০:৩০ মিনিটে জেনারেল ডায়েরি প্রস্তুত হলেও যে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তাতে কোনো সময় উল্লেখ ছিল না। আদালতের মতে, এতে স্পষ্ট সন্দেহ তৈরি হয় যে যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

৩. প্রমাণের অভাব: আদালত ডিএম ও পুলিশ প্রশাসনকে আকৃতির বিরুদ্ধে দেশবিরোধী স্লোগান বা হিংসায় উসকানি দেওয়ার ভিডিও প্রমাণ দাখিল করতে বললে, জমা দেওয়া ভিডিওতে তার কোনো সত্যতা মেলেনি। আদালত মনে করিয়ে দেয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার।

৪. দায়িত্বহীনতা বা অসৎ উদ্দেশ্য: হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, নয়ডা ডিএম হয় পুলিশের প্রতিবেদন সঠিকভাবে যাচাই করেননি, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ভয় দেখিয়ে প্রতিবাদ দমন করতে চেয়েছেন। এনএসএ-এর মতো কঠোর আইনের অপব্যবহার করে আকৃতির মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে।

৫. জরিমানার নির্দেশ: প্রাথমিকভাবে আদালত ডিএম-এর ওপর ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানার কথা ভাবলেও, রাজ্য সরকারের আইনজীবীর আপিলের ভিত্তিতে তা কমিয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা হয়। কারণ আকৃতিকে মাত্র একদিন অবৈধ আটক রাখা হয়েছিল এবং বর্তমানে তিনি বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

আমলাতন্ত্রের ‘স্বৈরাচারী’ মনোভাব নিয়ে সতর্কবার্তা

নয়ডার ডিএম-এর এই কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে হাইকোর্ট অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানিয়েছে, এই ধরনের স্বেচ্ছাচারী আমলাতন্ত্রের ‘স্বৈরাচারী’ মনোভাব চলতে থাকলে উত্তর প্রদেশ একটি জনহীন বা স্বাধীনতার অধিকারহীন দুঃস্বপ্নরাজ্যে পরিণত হতে পারে। আদালতের এই ঐতিহাসিক রায় দেশের প্রশাসনিক মহলে বড় ধরনের নাড়া দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *