সমুদ্রের তলায় লুকিয়ে থাকা অফুরন্ত ইউরেনিয়াম! পরমাণু শক্তিতে বিশ্বকে চমকে দিতে এবার কোন গোপন ছক কষছে চিন?

পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে এবার সমুদ্রের জলকে ইউরেনিয়ামের উৎস হিসেবে ব্যবহারের বড় পদক্ষেপ করেছে চিন। চিনা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির গবেষকরা সমুদ্রের জল থেকে সহজে ইউরেনিয়াম সংগ্রহের জন্য একটি বিশেষ উপাদান তৈরি করেছেন। এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে ভবিষ্যতে পরমাণু জ্বালানির জোগান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তা একটি বড় মোড় ঘোরানো অধ্যায় হতে পারে।
চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেস-এর গবেষকদের তৈরি এই অভিনব উপাদানটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফসকেজ’। দেখতে স্পঞ্জের মতো এই আণবিক কাঠামোর ভেতরে থাকা ফসফেট রাসায়নিকভাবে ইউরেনিয়ামকে আটকে রাখতে সক্ষম। ফলে সমুদ্রের জলে অত্যন্ত লঘু মাত্রায় মিশে থাকা ইউরেনিয়ামকে বাকি উপাদান থেকে আলাদা করা সহজ হয়। পরীক্ষাগারে এই উপাদান ব্যবহার করে প্রতি গ্রামে সর্বোচ্চ ৫০.৪ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সংগ্রহের সাফল্য মিলেছে, যা আমেরিকার পরীক্ষামূলক মানের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি।
যদিও সমুদ্রের জল থেকে ইউরেনিয়াম তোলার প্রধান বাধা হলো এর অত্যন্ত কম ঘনত্ব। হিসাব বলছে, এক টন সমুদ্রের জলে ইউরেনিয়ামের পরিমাণ মাত্র ৩.৩ মিলিগ্রামের কাছাকাছি। এর পাশাপাশি একই জলে ভ্যানাডিয়ামের মতো অন্যান্য উপাদান থাকায় নির্দিষ্টভাবে ইউরেনিয়াম আলাদা করা বেশ জটিল। তবে স্থলভাগের ৭৯ লক্ষ টন ইউরেনিয়াম মজুতের তুলনায় মহাসাগরগুলিতে প্রায় ৪৫০ কোটি টন ইউরেনিয়াম ছড়িয়ে থাকায় বহু দেশ দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে আসছে। চিনের এই নতুন ‘ফসকেজ’ প্রযুক্তি শেষ পর্যন্ত শিল্পস্তরে কতটা সফল ও লাভজনক হয়, এখন সেটাই দেখার।