আইফেল টাওয়ারে বিরাট কেলেঙ্কারি! নারী কর্মীদের সরিয়ে দিতেই বন্ধ করে দেওয়া হলো বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্য?

ফরাসি রাজধানীর অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান আইফেল টাওয়ারে এক নজিরবিহীন ঘটনার জেরে সোমবার হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেওয়া হয় টাওয়ারের কার্যক্রম। হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠী বিএপিএস (বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা)-এর একটি প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনের সময় মহিলা কর্মচারীদের কর্মস্থল থেকে সরিয়ে পুরুষ কর্মীদের সেখানে নিয়োগ করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পরেই ফরাসি প্রশাসনের অন্দরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্যারিস প্রশাসন একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন বিএপিএস-এর প্রায় ১০০ জন সদস্যের একটি দল আইফেল টাওয়ারে ব্যক্তিগত সফরে যান। বুসি-সেন্ট-জর্জে নতুন একটি মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ফ্রান্সে এসেছিলেন তাঁরা। আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী সংস্থা এসইটিই (SETE)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিনিধি দলের আধ্যাত্মিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যাতে নারীদের মেলামেশা সীমিত রাখা যায়, সেই অনুরোধ রেখেছিল ওই ধর্মীয় সংগঠন। সংস্থার তরফে সেই অনুরোধ মেনে নিয়ে নারী কর্মীদের সাময়িকভাবে অন্য স্থানে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তবে এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরেই ফুঁসে ওঠেন আইফেল টাওয়ারের কর্মীরা। কর্মী ইউনিয়নের প্রতিনিধি ডায়ান ডেভোয়ান জানান, এই পদক্ষেপে মহিলা কর্মীরা গভীরভাবে মর্মাহত ও অপমানিত বোধ করেছেন। লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিতে এমন বৈষম্যের প্রতিবাদে সোমবার কর্মীরা সভা করে কাজ বন্ধ রাখেন, যার জেরে টাওয়ারের পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। ফরাসি রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রীরাও এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার জানিয়েছেন, এ ধরনের শর্ত মেনে নেওয়া সম্পূর্ণ unacceptable বা অগ্রহণযোগ্য। সমতা বিষয়ক মন্ত্রী অরোরা বের্জ কড়া ভাষায় জানিয়েছেন যে ফ্রান্সে নারীদের ওপর কোনো বিধিনিষেধ চাপানো যায় না এবং কোনো ধর্মই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

অন্যদিকে, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে একটি বিবৃতি জারি করেছে বিএপিএস কর্তৃপক্ষ। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্যান্য দর্শনার্থীদের অসুবিধা কমাতে স্বাভাবিক খোলার সময়ের আগেই এই সফরের আয়োজন করা হয়েছিল এবং কোনো সময়েই কাউকে আইফেল টাওয়ারে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি। তবে এই পরিস্থিতিতে যাঁদের মনে আঘাত লেগেছে বা যাঁরা অসুবিধায় পড়েছেন, তাঁদের সকলের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে বিএপিএস।

সংগঠনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রতিনিধি দলে থাকা সাধুরা আজীবনের জন্য কঠোর ব্রহ্মচর্য পালন করেন, যার অংশ হিসেবে তাঁরা ঐতিহ্যগতভাবে নারীদের সংস্পর্শ বা ইচ্ছাকৃত মেলামেশা এড়িয়ে চলেন। এটি তাঁদের নিজস্ব আধ্যাত্মিক অনুশাসন, যা সাধারণ হিন্দু সমাজ বা নারীদের ওপর চাপানোর কোনো নিয়ম নয়। তা সত্ত্বেও, একটি সরকারি সংস্থা কীভাবে কর্মচারীদের কর্মসংক্রান্ত অধিকারে হস্তক্ষেপ করে এমন শর্ত মেনে নিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জনসেবামূলক ম্যান্ডেটের অধীনে পরিচালিত এই সংস্থার এহেন সিদ্ধান্ত কতটা আইনসম্মত ছিল, তা খতিয়ে দেখতেই এখন তদন্ত শুরু করেছে প্যারিস প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *