“জলের তলায় ৩০টির বেশি গ্রাম”-জেনেনিন মালদার পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ?

বাড়ছে গঙ্গার জলস্তর। আর সেই সঙ্গে মালদার মানিকচকের উত্তরচন্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গঙ্গার বুকে তৈরি হওয়া শতাব্দীপ্রাচীন ভূতনি চর ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে। যার জেরে সড়কপথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা এবং দুর্বিষহ দিন কাটছে সাধারণ মানুষের। প্রশাসনের তরফ থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে ঠিকই, তবে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তুঙ্গে।
গঙ্গার জল প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। চাষের জমি থেকে শুরু করে বসতবাড়ি—সবকিছুই এখন জলের তলায়। বাধ্য হয়ে বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন ত্রাণ শিবিরে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, বর্তমানে বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে বইছে গঙ্গা। ইতিমধ্যে কেসরপুরের বাঁধ ভেঙে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ৩০টিরও বেশি গ্রাম। দুর্লভোলা, ভুবনটোলা, কেদারটোলা এবং মানিকনগরের মতো এলাকাগুলি ব্যাপকভাবে প্লাবিত হওয়ায় জলবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ। এর জেরে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নেমেছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই মানিকচকে উপস্থিত রয়েছেন রাজ্যের দুই প্রতিমন্ত্রী। সেখান থেকেই পুরো পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে তৎপর রয়েছেন মানিকচকের বিধায়ক গৌড় চন্দ্র মন্ডলও। দুর্গতদের উদ্ধারে এবং সহায়তার জন্য ইতিমধ্যেই সাতটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। তবে অনেকে নিজেদের ভিটেমাটি ছাড়তে নারাজ থাকায় উদ্ধারকাজে কিছুটা বাধা আসছে। জল আরও বাড়লে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে আশঙ্কা করে সবাইকে সরিয়ে আনতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে প্রশাসন।
এদিকে মানিকচকের পাশাপাশি রতুয়ার অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। সেখানকার কাটাহা দিয়ারা এলাকার একমাত্র মহানন্দটোলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। রতুয়ার চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ বর্তমানে জলবন্দী। রাস্তার ওপর দিয়েই বইছে বন্যার তীব্র স্রোত। সর্বগ্রাসী গঙ্গার এই থাবায় বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের এখন একটাই প্রার্থনা, যত দ্রুত সম্ভব যেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।