অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা কি পাবেন? ১৭ সেপ্টেম্বরের আগে বড় ধাক্কা খেলেন লাখ লাখ মহিলা!

অন্নপূর্ণা যোজনার সেপ্টেম্বর মাসের ৩,০০০ টাকার কিস্তি নিয়ে রাজ্যজুড়ে উপভোক্তাদের মধ্যে এখন তুমুল চর্চা চলছে। চলতি মাসে প্রকল্পের আওতায় থাকা প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ডিবিটি (DBT)-র মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাঠানোর কথা রয়েছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে এই টাকা পৌঁছনোর কথা রয়েছে। তবে এর মধ্যেই যাচাই প্রক্রিয়ার ফল নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বহু পরিবারে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জমা পড়া আবেদনগুলি যাচাই করতে গিয়ে বিপুল সংখ্যক নথিপত্র ও তথ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৭ লক্ষ আবেদন হয় বাতিল করা হয়েছে, নয়তো সাময়িকভাবে আটকে রাখা হয়েছে। ফলে যাঁরা সেপ্টেম্বরের কিস্তির আশায় বসেছিলেন, তাঁদের অনেকের অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট সময়ে টাকা জমা হবে কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

কেন বাতিল বা আটকে গেল এত আবেদন?

যাচাইয়ের সময় সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে আবেদনকারীর পরিচয়পত্র এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যের মধ্যে অমিল থাকায়। প্রায় ১০ লক্ষ আবেদনের ক্ষেত্রে নাম, জন্মতারিখ এবং ঠিকানাসমূহ বিভিন্ন তথ্যের গরমিল ধরা পড়েছে। পরিচয়পত্রে থাকা তথ্যের সঙ্গে ব্যাঙ্কের নথির মিল না থাকলে ডিবিটি-র মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়।

এছাড়াও, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সঠিকভাবে প্রয়োজনীয় সিডিং না থাকা, ডিবিটি পরিষেবা সক্রিয় না থাকা এবং আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দেওয়ার কারণেও বহু ফাইল আটকে রয়েছে। অর্থাৎ, শুধু আবেদন করলেই নিশ্চিতভাবে টাকা মিলবে না, বরং যাচাইয়ের প্রতিটি ধাপে সমস্ত তথ্য সঠিক থাকা জরুরি।

টাকা না ঢুকলে বা আবেদন আটকে গেলে কী করবেন?

অ্যাকাউন্টে টাকা না পৌঁছলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে অফিশিয়াল পোর্টালে গিয়ে আবেদনের বর্তমান স্ট্যাটাস পরীক্ষা করতে হবে। স্ট্যাটাসে যদি ‘আন্ডার প্রসেস’ দেখায়, তবে নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। এর অর্থ আবেদনটি এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং কাজ শেষ হলে অনুমোদিত হতে পারে।

অন্যদিকে, আবেদন বাতিল হয়ে গেলে নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে আপত্তি বা সংশোধনের আবেদন জানানোর সুযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি, ডিবিটি সংক্রান্ত সমস্যা এড়াতে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে পরিচয়পত্রের তথ্য ও ডিবিটি পরিষেবা সক্রিয় আছে কি না, তা নিশ্চিত করে নেওয়া দরকার।

এদিকে, যাঁরা এখনও এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারেননি, তাঁদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট রয়েছে। দুর্গাপুজোর পর প্রকল্পের অফিশিয়াল পোর্টাল ফের খুলে যেতে পারে, ফলে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ মিলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *