দিল্লির বুকে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ল ছাত্রাবাস! মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল দেশ

দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি বহুতল পিজি ভবন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার ঘটনায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছের এই বহুতলে মূলত দূরদূরান্ত থেকে পড়তে আসা ছাত্ররাই থাকতেন। রবিবার ছুটির দুপুরে বাড়িটি ধসে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন অনেকে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি দেশের ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষার দাবিতে এবার জোরালো সওয়াল করলেন বলিউড ও দক্ষিণী তারকা সোনু সুদ।

ছাত্রাবাসের হাহাকার ও ভয়াবহ পরিসংখ্যান

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ তরুণ-তরুণী রাজধানীতে নিজের স্বপ্নপূরণ করতে আসেন। কিন্তু তাদের আবাসন ও নিরাপত্তা নিয়ে থেকেই গেছে বড় প্রশ্নচিহ্ন। এই বাস্তবতার কথা তুলে ধরে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সোনু সুদ লিখেছেন, প্রতি বছর লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী অন্য শহরে নিজেদের স্বপ্নপূরণ করতে ঘর ছাড়েন, কিন্তু তাদের বসবাসের জন্য কি একটি নিরাপদ জায়গা নিশ্চিত করা যাচ্ছে? দিল্লিতে প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী নথিভুক্ত থাকলেও হস্টেলে থাকতে পারেন মাত্র ৩০ হাজার জন। অর্থাৎ, প্রতি ৩১ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন হস্টেল পাওয়ার সুযোগ পান।

সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাইলেন অভিনেতা

পরিসংখ্যানের এই ভয়ঙ্কর চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সমস্যার একটি দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর সমাধানের পথও দেখিয়েছেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আশেপাশে ফাঁকা সরকারি জমি চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী ছাত্রাবাস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও ক্যাম্পাসের ভেতরে আরও থাকার জায়গা তৈরির জন্য অতিরিক্ত ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। সোনুর যুক্তি, এই ছোট নীতিগত পরিবর্তনেই শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা পাবে, অভিভাবকদের মানসিক শান্তি ফিরবে এবং জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।

উদ্ধারাজে তৎপর প্রশাসন

এদিকে এই দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তৎপর হয়ে ওঠে স্থানীয় প্রশাসন। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে হাত লাগায় পুলিশ, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া প্রতিটি মানুষকে নিরাপদে বের করে আনার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আশেপাশের ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িগুলিও খালি করে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *