রাস্তার ধারের ফুচকা খাচ্ছেন তো? গোপনে শরীরে কোন মারণ রোগ বাসা বাঁধছে জানেন কি?

বাঙালির আবেগের অপর নাম ফুচকা। পাড়ার মোড় হোক কিংবা মেলা প্রাঙ্গণ, আট থেকে আশি—সকলের কাছেই এই মুচমুচে খাস্তা খাবারটি অত্যন্ত লোভনীয়। তবে প্রিয় এই মুখরোচক খাবারটি কতটা স্বাস্থ্যসম্মত, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো। খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ চলাকালীন হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের করা একটি ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি হুগলির খানাকুলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ফুচকার তেঁতুল জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সেই পরীক্ষার যে রিপোর্ট সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, সংগৃহীত ফুচকার জলে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মিলжээ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দূষিত জল নিয়মিত শরীরে প্রবেশ করলে মারাত্মক পেটের রোগ, পেটে তীব্র ব্যথা এবং বমির মতো নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হুগলি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মৃগাঙ্ক মৌলিক কর জানান, পরীক্ষার পর স্থানীয় ফুচকা বিক্রেতাদের ডেকে ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে। ফুচকার জলে যে ব্যাকটেরিয়া মিলেছে, তা সরাসরি জলের উৎস অথবা ফুচকা তৈরির সামগ্রী থেকে আসতে পারে। এই ঘটনার পরেই সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর।

বিক্রেতাদের জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের স্পষ্ট নির্দেশ, ফুচকা বিক্রির সময় সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে এবং বাধ্যতামূলকভাবে গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া সমস্ত খাবার জিনিস ও টকজলের হাঁড়ি বা ড্রাম সবসময় ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, যাতে বাইরের ধুলো-ময়লা না পড়ে।

অন্যদিকে, স্থানীয় ফুচকা বিক্রেতাদের একাংশের দাবি, তাঁরা সমস্ত রকম স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করেন। রাজা ঢালী নামে এক বিক্রেতা জানান, স্বাস্থ্য দপ্তরের গাইডলাইন মেনে চলা উচিত এবং খালি হাতে খাবার মাখা থেকে বিরত থাকা দরকার। তবে ল্যাব টেস্টের এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে আসার পর থেকে ফুচকা খাওয়ার আগে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার পরামর্শই দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *