গভীর রাতে ঘরে ঢুকে পোশাক টানাটানি! ২৬ বছর পুরনো মামলায় ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের বিরাট রায়!

গভীর রাতে মহিলার ঘরে ঢুকে শ্লীলতাহানি বা পোশাক টানাটানির মতো ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হলেও, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ (Attempt to Rape)-র আওতায় পড়ে না। ছাব্বিশ বছর আগের একটি ফৌজদারি মামলায় এমনই চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ পেশ করেছে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতের দেওয়া চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা খারিজ করে অভিযুক্তের সাজা পুনর্নির্ধারণ করেছে আদালত।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই
ঘটনাটি ১৯৯৯ সালের ২৭ ডিসেম্বরের। পূর্ব সিংভূম জেলার একটি গ্রামে গভীর রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে দরজা খুলে এক মহিলার ঘরে ঢুকে পড়ে অভিযুক্ত। তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং পোশাক টানাটানি করার অভিযোগ ওঠে। মহিলার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। ঘটনার চার দিন পর থানায় এফআইআর দায়ের হয়। দীর্ঘ বিচারপর্বের পর ২০০৬ সালে ঘাটশিলার অতিরিক্ত দায়রা আদালত অভিযুক্তকে আইপিসি (IPC)-র ৩৭৬/৫১১ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও রায়
মামলার শুনানিতে বিচারপতি প্রদীপ কুমার শ্রীবাস্তবের একক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ধর্ষণের চেষ্টা প্রমাণ করতে হলে অভিযুক্তের এমন কিছু নির্দিষ্ট ও প্রত্যক্ষ কর্মকাণ্ড থাকা প্রয়োজন, যা সরাসরি অপরাধ সম্পন্ন করার দিকে এগিয়ে যায়। এই মামলায় সেই ধরনের সরাসরি প্রমাণের অভাব রয়েছে। তবে অভিযুক্তের অপরাধকে কোনোভাবেই লঘু করে দেখেনি আদালত। মহিলার শ্লীলতাহানি বা লজ্জা ভঙ্গের উদ্দেশ্যে আক্রমণের অভিযোগ আইপিসির ৩৫৪ ধারার আওতায় পড়ে বলে আদালত জানিয়েছে।
ঘটনার দীর্ঘ ২৬ বছর অতিক্রান্ত হওয়া, অভিযুক্তের পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা এবং বিচার চলাকালীন প্রায় আট মাস কারাবাসের কথা বিবেচনা করে হাইকোর্ট তার সাজা কমিয়ে ইতিমধ্যেই জেলে কাটানো সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে। এই রায় ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির আইনি সংজ্ঞার মধ্যে সীমারেখাটিকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেছে।