প্রয়াত জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত মালয়ালম পরিচালক আর. শরৎ, শোকে স্তব্ধ দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগত

দীর্ঘ দিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করার পর অবশেষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন জাতীয় পুরস্কার জয়ী প্রখ্যাত মালয়ালম চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার আর. শরৎ (R. Sarath)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রিবান্দ্রমের (তিರುವনন্তপুরম) একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর প্রয়াণে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে এবং সাংস্কৃতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চলচ্চিত্র জগতে এক বর্ণময় অধ্যায়১৯৬০ সালে কেরালার কোলম জেলার বিলাক্কুদিতে জন্ম নেওয়া আর. শরৎ পড়াশোনা শেষ করেন তিರುವনন্তপুরমের মহাত্মা গান্ধী কলেজ ও ইউনিভার্সিটি কলেজ থেকে। পরবর্তীতে পুণের বিখ্যাত ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (FTII) থেকে ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশনের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ‘কেরালা কৌমদী’ পত্রিকায় কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে কেরালার রাজ্য সরকারের জনসংযোগ বিভাগে যোগ দেন এবং ২০২১ সালে ডেপুটি ডিরেক্টর পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। সাংবাদিকতা থেকে সরকারি চাকরি পেরিয়ে পুরোপুরি সৃজনশীল দুনিয়ায় নিজের নাম খোদাই করেছিলেন তিনি। পুরস্কার ও প্রশংসিত কাজসমূহপরিচালক হিসেবে আর. শরৎ তাঁর স্বতন্ত্র ধারার গল্প বলার শৈলীর জন্য বিশেষ পরিচিত ছিলেন। তাঁর পরিচালিত ‘সায়াহ্নম’ (Sayahnam) চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয় এবং মুক্তির পর জাতীয় স্তরে ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার ছাড়াও ২০০০ সালে একাই ৭টি কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়া তাঁর পরিচালিত ‘দ্য ডিজায়ার – আ জার্নি অফ আ ওম্যান’ (The Desire – A Journey of a Woman) চলচ্চিত্রটি ২০১১ সালে জেনিভা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ন্যারেটিভ ফিচার ফিল্মের পুরস্কার জিতেছিল। ফিচার ফিল্মের পাশাপাশি তথ্যচিত্র, শর্ট ফিল্ম এবং শিল্পকলাতেও তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডির প্রেক্ষাপটে তৈরি তাঁর ‘বুরিয়াল অফ ড্রিমস’ (Burial of Dreams) ছবিটি জাতীয় স্তরে দারুণ নজর কেড়েছিল। এ ছাড়া রাজা রবি বর্মার চিত্রকর্ম নিয়ে নির্মিত তাঁর তথ্যচিত্র আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করে। ম্যুরাল পেন্টিং বা প্রাচীর চিত্রের ওপর কাজের জন্য তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের জুনিয়র ফেলোশিপও লাভ করেছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী এবং দুই পুত্রসন্তানকে রেখে গেছেন। তাঁর প্রয়াণে চলচ্চিত্র শিল্পের অপূরণীয় ক্ষতি হলো বলে জানিয়েছে ‘ফিল্ম এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অফ কেরালা’ (FEFKA) ডিরেক্টরস ইউনিয়ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *