বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য বাম্পার উপহার! প্রতি মাসে সাড়ে চার হাজার টাকা পাওয়ার দারুণ সুযোগ, কীভাবে আবেদন করবেন?

বিগত সরকারের আমলে বার্ধক্য, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষম বা দিব্যাঙ্গ ভাতা বাবদ প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে দেওয়া হতো। তবে সেই নিয়মে বড় বদল এনে আজ থেকেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে বর্ধিত ১,৫০০ টাকা করে পাঠাতে শুরু করল রাজ্য সরকার। নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বর্ধিত ভাতার সূচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ উপভোক্তারা দেড় হাজার টাকা পেলেও বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য আরও বড় সুযোগের ঘোষণা করা হয়েছে। সঠিক নিয়ম মেনে আবেদন করলে তাঁরা প্রতি মাসে এককালীন সাড়ে চার হাজার টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন।

অন্নপূর্ণা যোজনায় বিশেষ সুবিধা

এদিনের ঘোষণা অনুযায়ী, সাধারণ ভাতার পাশাপাশি বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলাদের জন্য রাজ্যে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করা হয়েছে, যার সুফল ইতিমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলা পেতে শুরু করেছেন। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে গোটা রাজ্যে ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে এবং ওই দিনই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা ট্রান্সফার করা হবে।

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, রাজ্যে এমন প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার বিশেষভাবে সক্ষম বোন বা দিদি রয়েছেন, যাঁদের বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। যদিও দ্বৈত ভাতার নিয়ম না থাকায় একসঙ্গে দুটি ভাতা দেওয়া হয় না, তবে এই বয়সি দিব্যাঙ্গ মহিলারা প্রচলিত নিয়ম মেনে আবেদন করলে সাধারণ ভাতার ১,৫০০ টাকার পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০ টাকাও একসঙ্গে পাবেন। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রতি মাসে তাঁরা সাড়ে চার হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা লাভ করবেন।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বকেয়া ভাতার হিসাব

বর্ধিত ভাতার এই বন্টন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, অগস্ট মাসের বর্ধিত ভাতা আজ থেকেই সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা শুরু হয়েছে। অর্থাৎ যাঁরা এতদিন জুলাই মাস পর্যন্ত ১,০০০ টাকা করে পেয়ে আসছিলেন, তাঁরা এখন থেকে অগস্ট মাসের সুবিধা হিসেবে সরাসরি ১,৫০০ টাকা করে হাতে পাবেন।

পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান আর্থিক অবস্থা নিয়ে বলতে গিয়ে বিগত সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্য এক সময় কার্যত অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে সেই সংকটজনক পরিস্থিতি কাটিয়ে সম্পূর্ণভাবে ঘুরে দাঁড়াতে এখনও অন্তত এক বছর সময় লাগবে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা এবং নিজস্ব রাজস্ব সংগ্রহ ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলেই এই ধরনের কল্যাণমুখী প্রকল্পগুলি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *