অন্নপূর্ণার টাকা ঢুকবে কবে? সেপ্টেম্বরের কোন বিশেষ দিনে বড় ঘোষণা করলেন মন্ত্রী?

চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিজেপি সরকারের জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। পূর্বতন সরকারের আমলের বেশ কিছু সুবিধার খতিয়ান বদলে এখন এই নতুন রূপেই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যেখানে ভাতার পরিমাণও অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া এবং কিছু কঠোর শর্তের বেড়াজাল নিয়ে উপভোক্তাদের একাংশের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগও জমা হচ্ছিল। ঠিক কবে নাগাদ অ্যাকাউন্টে ঢুকবে এই প্রকল্পের টাকা, এবার সেই দিনক্ষণ নিয়ে মুখ খুললেন খোদ মন্ত্রী।
এর আগে প্রকল্পের শুরুর দিকে বহু উপভোক্তা মাসের প্রথমের দিকেই টাকা পেয়ে গিয়েছিলেন। গত অগাস্ট মাসে ১৭ তারিখ থেকে উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, যাচাই প্রক্রিয়ায় যাঁরা যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাঁরা প্রতি মাসের ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যেই নিয়মিত অ্যাকাউন্টে টাকা পেয়ে যাবেন।
সেপ্টেম্বরের কোন দিনে মিলবে টাকা?
চলতি সেপ্টেম্বর মাসের অন্নপূর্ণার টাকা এখনও পর্যন্ত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ঢোকা শুরু হয়নি। এই পরিস্থিতিতে টাকা পাওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন মন্ত্রী মালতী রাভা রায়। রবিবার কোচবিহার রাসমেলা মাঠ পরিদর্শনে এসে তিনি জানান, আগামী অক্টোবর মাস থেকে তৃতীয় সপ্তাহেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়মিত ঢুকতে শুরু করবে।
সেপ্টেম্বর মাসের টাকা কবে ঢুকবে, সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মন্ত্রী সাধারণ মানুষকে একটু ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ১৭ তারিখের কথা তো বলাই হয়েছে। বিশেষ করে ওই দিনটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনও বটে। তাই সেই বিশেষ দিনেই সেপ্টেম্বর মাসের অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া শুরু হবে।
কী জানা যাচ্ছে পুজোর মাসের কিস্তি নিয়ে?
আসন্ন অক্টোবর মাসেই রয়েছে বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। পুজোর সেই ব্যস্ত মাসেই কি তবে তৃতীয় সপ্তাহে ভাতার টাকা দেওয়া হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন, ধরে নেওয়া যেতে পারে যে এরপরে প্রতিবারই তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই টাকা বন্টন শুরু হবে। মূলত মাসের দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই উপভোক্তারা এই আর্থিক সহায়তা হাতে পেয়ে যাবেন।
একইসঙ্গে অযোগ্যদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের নাম নতুন করে তোলার প্রক্রিয়ায় সংবাদমাধ্যম ও সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন মন্ত্রী মালতী রাভা রায়। তিনি আরও জানান, নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ বর্তমানে এখনও চলমান রয়েছে। তবে সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, কোনো প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না এবং শীঘ্রই নতুন নামও তালিকায় সংযোজিত হবে। এর আগে সরকার বাহাদুর এই খাতে প্রথমে ১২ হাজার কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলেও জানান তিনি।