প্রধানমন্ত্রী কি তবে রাহুল গান্ধীই? সিপিএম নেতার এই বিস্ফোরক মন্তব্যে ওলটপালট জাতীয় রাজনীতি!

২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। ঠিক এই আবহেই রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী পদের দাবি এবং বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য তথা প্রবীণ নেতা এমএ বেবি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, লোকসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী পদের দাবি জানানোর পূর্ণ অধিকার রয়েছে রাহুলের। তবে নির্বাচনের আগে থেকেই তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে তুলে ধরার পক্ষে একেবারেই সায় নেই বামেদের।

ভোটের আগে মুখ ঘোষণা নয়
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমএ বেবি জানান, সাধারণত লোকসভার প্রধান বিরোধী দলনেতার এই দাবি জানানোর সাংবিধানিক অধিকার থাকে। তবে পরবর্তী সরকার কে পরিচালনা করবেন, তা নিয়ে অহেতুক জলঘোলা না করে নির্বাচন মিটে যাওয়ার পর তা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। বিরোধী দলগুলি আগে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করুক, তারপরেই সমমনা রাজনৈতিক দলগুলি আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারবে। বিরোধী শিবিরের দলগুলি যথেষ্ট পরিণত এবং সঠিক সময়ে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলেই তাঁর বিশ্বাস।

এই প্রসঙ্গে বিগত দিনের রাজনৈতিক স্মৃতি উসকে দিয়ে ১৯৯৬ সালের পরিস্থিতি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সিপিএম নেতা। সে সময় ইউনাইটেড ফ্রন্ট বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে আসার পর পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে দেশের প্রধানমন্ত্রী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত দল সেই ঐতিহাসিক প্রস্তাব খারিজ করে দেয়। বর্তমান প্রসঙ্গে এমএ বেবি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সংসদে সিপিএমের বর্তমান শক্তি অনুযায়ী দল নিজে থেকে কখনই প্রধানমন্ত্রী পদের দাবি জানাবে না, কারণ তা অবাস্তব হবে। সেই কারণেই বিরোধী শিবির জয়ী হলে লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর দাবি স্বাভাবিকভাবেই জোরদার হতে পারে।

জল্পনা এড়িয়ে মূল লক্ষ্যে নজর
ভোটের আগে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে কোনো রকম অনুমান বা রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে নারাজ সিপিএম সাধারণ সম্পাদক। তাঁর মতে, আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে জল্পনা শুরু হলে বিরোধীদের মূল ফোকাস বা লক্ষ্য থেকে নজর সরে যেতে পারে। আপাতত কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে হটিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার দিকেই বিরোধী দলগুলির একযোগে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

এদিকে তামিলনাড়ুর জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা জোসেফ বিজয়ের নামও ভবিষ্যতে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিছু মহলে চর্চা হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি। তবে সেই বিতর্কে প্রবেশ না করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই ধরনের আলোচনা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। সবমিলিয়ে এমএ বেবির অবস্থান একেবারে স্পষ্ট—বিরোধীরা আগে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গড়ার মতো ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলুক, আর প্রধানমন্ত্রী কে হবেন সেই সিদ্ধান্ত ভোটের ফল প্রকাশের পরেই পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হোক। তবে সেই পরিস্থিতিতে রাহুল গান্ধীর দাবিকে যে অস্বীকার করা যাবে না, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *