AI-এর ভুলে লাখ টাকার ক্ষতি হলে টাকা দেবেন কে? আইআইটি মাদ্রাজের চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে চোখ কপালে উঠবে!

দৈনন্দিন জীবনে আমাদের অজান্তেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর দখল ক্রমশ বাড়ছে। অনলাইন শপিংয়ের কেনাকাটা থেকে শুরু করে ফোনের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট, চ্যাটবটের পরামর্শ, এমনকি জটিল চিকিৎসার সিদ্ধান্তেও আজকাল এআই অ্যালগরিদমের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি, যদি কোনও এআই-চালিত প্ল্যাটফর্ম ভুল তথ্য দেয়, ভুল চিকিৎসা নির্ধারণ করে কিংবা আর্থিক জালিয়াতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে সেই ক্ষতির দায় কার ঘাড়ে বর্তাবে?

ঠিক এই জায়গাটিতেই বড়সড় প্রশ্ন ও আইনি শূন্যতার কথা তুলে ধরেছে ভারতের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি মাদ্রাজের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা। তাদের গবেষণাপত্রে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে গ্রাহকদের কোনও ক্ষতি হলে তা মোকাবিলা করার মতো যথেষ্ট ক্ষমতা ভারতের বিদ্যমান উপভোক্তা সুরক্ষা আইন (Consumer Protection Act, 2019)-এর নেই।

আইনি সুরক্ষার অভাব ও ‘ব্ল্যাক বক্স’ রহস্য
আইআইটি মাদ্রাজের গবেষকদের মতে, ২০১৯ সালের উপভোক্তা সুরক্ষা আইনটি যখন তৈরি হয়েছিল, তখন মূলত সাধারণ পণ্য বা প্রচলিত পরিষেবার ত্রুটি বিবেচনা করে এর রূপরেখা আঁকা হয়েছিল। সেখানে কোনও পণ্য খারাপ বেরোলে প্রস্তুতকারক, বিক্রেতা বা সরাসরি পরিষেবা প্রদানকারীকে দায়ী করার স্পষ্ট বিধান রয়েছে। কিন্তু জটিল এআই সিস্টেমের ক্ষেত্রে বিষয়টি ততটা সোজা নয়। এআই কীভাবে একটি সিদ্ধান্ত তৈরি করছে (যা প্রযুক্তির ভাষায় ‘ব্ল্যাক বক্স’ নামে পরিচিত), তা অনেক সময় নির্মাতারাও পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারেন না।

ফলে কোনও স্বয়ংক্রিয় এআই সিস্টেম যদি ভুল সুপারিশের মাধ্যমে গ্রাহকের শারীরিক, মানসিক বা আর্থিক বিপর্যয় ডেকে আনে, তবে আদালত বা উপভোক্তা ফোরামে গিয়ে কে দায়ী হবেন—সফটওয়্যার ডেভেলপার, যে ডেটা দিয়ে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে তার মালিক, নাকি যে সংস্থা এআই ব্যবহার করে পরিষেবা দিচ্ছে? বর্তমান আইনে এই নিয়ে কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই।

ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রাস্তা প্রায় বন্ধ
গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রচলিত আইনে ‘পণ্যের ত্রুটি’ (Product Liability) প্রমাণ করা যায় তখনই, যখন তার মধ্যে দৃশ্যমান কোনও নির্মাণগত বা নকশাগত খামতি থাকে। কিন্তু এআই যখন নিজে থেকেই নতুন নতুন তথ্য শিখে সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছে, তখন প্রচলিত আইনের ধারায় দোষ প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এতে প্রতারিত বা ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ গ্রাহকের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রাস্তা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তি যে ঝড়ের গতিতে এগিয়ে চলেছে, আমাদের আইনব্যবস্থা যদি তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত না বদলায়, তবে অদূর ভবিষ্যতে লাখ লাখ গ্রাহক চরম ঝুঁকির মুখে পড়বেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র যেখানে এআই-এর জন্য আলাদা কঠোর জবাবদিহিতা ও নিয়ম তৈরি করছে, সেখানে ভারতেও দ্রুত উপভোক্তা আইনে পরিবর্তন এনে ‘অ্যালগরিদমিক ক্ষতি’ এবং এআই পরিচালনাকারীদের সুনির্দিষ্ট দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য জোর সওয়াল করছেন গবেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *