স্কুলে কি পুরোপুরি বন্ধ হতে চলেছে মোবাইল ফোন? কঠিন সিদ্ধান্তের কথা শোনালেন শুভেন্দু

রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি কমাতে এবার কি তবে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার? শিক্ষক দিবসের একটি অনুষ্ঠানে রাজ্য বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে শুরু হয়েছে জোরালো জল্পনা। বর্তমান প্রজন্ম যেভাবে দিনরাত স্ক্রিনে আসক্ত হয়ে পড়ছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

শিক্ষক দিবসের মঞ্চে শুভেন্দুর বার্তা

শনিবার শিক্ষক দিবসের এক অনুষ্ঠানে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণা করার পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের পড়ুয়াদের মুঠোফোনে আসক্তি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ছোটদের হাতে স্মার্টফোন থাকার কারণে তাদের ঘুমের সময় নষ্ট হচ্ছে এবং পড়াশোনাতেও তার মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। রাত দেড়টা থেকে দু’টোর আগে বাচ্চারা ঘুমোতে যায় না, বাবা-মায়ের আড়ালে সারাক্ষণ মোবাইল ঘাঁটছে।

এই প্রসঙ্গে গুজরাটের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, সেখানে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের স্কুলে মোবাইল নিয়ে যাওয়ার ওপর কড়া নজরদারি রয়েছে। এমনকি তিনি স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেন যে এই ধরনের আসক্তি রোধ করতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ও কঠিন সংস্কার প্রয়োজন। যদিও এমন কড়া পদক্ষেপ নিলে রাজনৈতিকভাবে ভোট কমার ঝুঁকি থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিশুদের স্ক্রিন টাইম ও বিশেষজ্ঞদের মত

কোভিড মহামারী এবং অনলাইন ক্লাসের পর থেকেই শিশুদের মধ্যে গ্যাজেটের ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সময়ে প্রি-প্রাইমারি থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের মধ্যেও রিল এবং অনলাইন গেমসের নেশা সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে। শিক্ষাবিদ ও মনোবিদদের মতে, এই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শিশুদের এই ডিজিটাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কাজে তাদের ব্যস্ত রাখার পরামর্শ দিয়ে আসছেন খোদ প্রধানমন্ত্রীও। এখন দেখার বিষয়, ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল আসক্তি দূর করতে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করে কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *