গভীর রাতে বিকট আওয়াজ! দাঁড়িয়ে থাকা লরির তলায় ঢুকে গেল গাড়ি, ছুটির আনন্দ মুহূর্তে কেড়ে নিল মর্মান্তিক মৃত্যু

রাত তখন পৌনে বারোটা নাগাদ হঠাৎই এক বিকট আওয়াজে কেঁপে ওঠে এলাকা। স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে দেখেন, একটি দাঁড়িয়ে থাকা পণ্যবাহী লরির তলায় সম্পূর্ণ ঢুকে গিয়েছে একটি চারচাকা গাড়ি। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া সেই গাড়ির ভেতর থেকে ভেসে আসছে তরুণ পড়ুয়াদের বাঁচানোর আকুল আর্তনাদ। শুক্রবার রাতে কেরলের ত্রিশূরের কাইপামঙ্গলমে এমনই এক ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তামিলনাড়ু থেকে ঘুরতে আসা আট জন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্মাণাধীন ৬ জাতীয় সড়কের কাইপামঙ্গলম এলাকায় রাস্তার ওপরেই একটি পণ্যবাহী লরি পার্ক করা ছিল এবং তার ঠিক সামনেই ছিল গাড়ি ঘোরানোর ডাইভারশন। শুক্রবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আসা একটি চারচাকা গাড়ি সজোরে ওই দাঁড়িয়ে থাকা লরিতে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষ এতটাই মারাত্মক ছিল যে গাড়িটির সামনের অংশটি লরির পিছনের অংশের তলায় পুরোপুরি ঢুকে গিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

ভয়াবহ শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধার কাজে হাত লাগান। সেই সময় গাড়ির ভেতরে কয়েকজন ছাত্র জীবিত ছিলেন বলে জানা যায়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ও দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। গাড়িটির সামনের অংশে আটকে থাকা পড়ুয়াদের বের করতে রীতিমতো বেগ পেতে হয় উদ্ধারকারীদের; শেষ পর্যন্ত গ্যাসকাটার দিয়ে গাড়ি কেটে তাঁদের মৃতদেহ বাইরে বার করা হয়। দুর্ঘটনগ্রস্ত গাড়িটি থেকে উদ্ধার হওয়া পরিচয়পত্র দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃতরা সকলেই তামিলনাড়ুর দিন্দিগুলের পিএসএনএ কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। তাঁরা ছুটির দিন কাটাতে তামিলনাড়ু থেকে কেরলে এসেছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে পাঁচ জন যুবকের পরিচয় সনাক্ত করা গেছে। তাঁরা হলেন সালেমের বিশ্ব, দিন্দিগুলের সূর্য ও যুব সঞ্জিত এবং মাদুরাইয়ের সন্তোষ ও প্রসন্ন। বাকি তিন জনের পরিচয় জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবারকে ঘটনার খবর দেওয়া হয়েছে। কাইপামঙ্গলম থানার পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর মরদেহগুলি ত্রিশূর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষ হলে দেহগুলি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

এদিকে এই দুর্ঘটনার জন্য প্রশাসনের অব্যবস্থাকেই দায়ী করেছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, জাতীয় সড়কে পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং সঠিক সতর্কীকরণ বোর্ড বা সাইনবোর্ডের অনুপস্থিতির কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। চলমান রাস্তা মেরামতের কাজের কারণে যান চলাচল ঘুরিয়ে দেওয়া হলেও যথাযথ নির্দেশিকার অভাবে দূর-দূরান্তের চালকরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন, যার ফলে ওই এলাকায় রাতের অন্ধকারে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অতিরিক্ত গতির জেরে এই ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *