উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, শনিবারেও বাতিল একগুচ্ছ ট্রেন

নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে রেললাইনে ভয়াবহ ধসের জেরে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে রেল যোগাযোগ এখনও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গতরাতভর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলেছে মেরামতির কাজ। পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও শনিবারও বহু দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল রাখা হয়েছে এবং বেশ কিছু ট্রেনের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে।
যে ট্রেনগুলি আজ বাতিল রয়েছে:
-
নাহারলাগুন–সাঁতরাগাছি স্পেশাল
-
গুয়াহাটি–হাওড়া সরাইঘাট এক্সপ্রেস
-
বামনহাট–শিয়ালদহ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস
-
আলিপুরদুয়ার–শিয়ালদহ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস
-
হলদিবাড়ি–শিয়ালদহ দার্জিলিং মেল
-
বালুরঘাট–শিয়ালদহ এক্সপ্রেস
-
নিউ আলিপুরদুয়ার–শিয়ালদহ পদাতিক এক্সপ্রেস
-
জলপাইগুড়ি রোড–পদাতিক হামসফর এক্সপ্রেস
-
রাধিকাপুর–কলকাতা এক্সপ্রেস
-
যোগবাণী–কলকাতা এক্সপ্রেস
-
কাটিহার–হাওড়া এক্সপ্রেস
-
রাধিকাপুর–হাওড়া কুলিক এক্সপ্রেস
-
বালুরঘাট–কলকাতা তেভাগা এক্সপ্রেস
-
নিউ আলিপুরদুয়ার–শিয়ালদহ তিস্তা–তোর্সা এক্সপ্রেস
-
মালদা টাউন–হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস
ঘুরপথে যে ট্রেনগুলি চলছে:
যাত্রীদের যাতায়াত সচল রাখতে শতাব্দী এক্সপ্রেস, সরাইঘাট এক্সপ্রেস, বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর এক্সপ্রেস এবং হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস নিউ ফরাক্কা থেকে আজিমগঞ্জ হয়ে কাটোয়া ও ব্যান্ডেলের পথে চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ও তিনসুকিয়া এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনগুলিকে নিউ ফরাক্কা থেকে আজিমগঞ্জ হয়ে নলহাটির দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মেরামতির আপডেট ও রেলের বক্তব্য:
পূর্ব রেল সূত্রে খবর, ধসে ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের মেরামতির কাজ এখন অন্তিম পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় ১৫০ জন শ্রমিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা ও প্যাচওয়ার্ক ঠিক করার কাজে যুক্ত রয়েছেন। আপ লাইনে ওয়াগনে করে স্টোন ডাস্ট এনে মাটি পরীক্ষা ও পাইলিংয়ের কাজ চলছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে জানান, এটি রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ত্রুটি নয়, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক কারণে ধস নেমেছে। ভবিষ্যতে এই ধরণের বিপর্যয় এড়াতে আইআইটি-র (IIT) সহায়তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) নির্ভর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
আটকে পড়া যাত্রীদের পাশে প্রশাসন:
ট্রেন বাতিল ও চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বিভিন্ন স্টেশনে আটকে থাকা যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ও প্রশাসনিক উদ্যোগে আটকে থাকা যাত্রীদের মধ্যে শুকনো খাবার ও পানীয় জল বিতরণ করা হচ্ছে। স্থানীয় বিডিও এবং প্রশাসনের পক্ষ aথেকে যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য বাস ও প্রয়োজনে হোটেল-লজে থাকার ব্যবস্থার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বিজেপির উত্তর মালদার সাংসদ খগেন মুর্মু জানান, অতিবৃষ্টির কারণে এই ধসের ফলে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ছিল।