‘দিদিভাই’-এর কাছে নালিশ জানাতে গিয়ে চরম বিক্ষোভ! অন্নপূর্ণার টাকা না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মহিলারা

পানীয় জল, রাস্তা এবং নিকাশি ব্যবস্থার মতো সাধারণ নাগরিক পরিষেবা ঠিকঠাক মিলছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে আসানসোলে ‘পাড়ায়-পাড়ায় দিদিভাই’ কর্মসূচি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন মন্ত্রী তথা আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। কিন্তু সাধারণ মানুষের সমস্যা শুনতে গিয়ে হিরাপুর থানার ৮ নম্বর বস্তি এলাকায় এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মুখে পড়তে হলো তাঁকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখ থেকে পরিষেবা নিয়ে অন্য কোনো অভিযোগ শোনা দূরের কথা, চারপাশ থেকে কেবল একটিই তীব্র অসন্তোষ ভেসে এল— কেন তাঁরা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা পাচ্ছেন না?

ক্যাম্প চত্বরে তুমুল বিশৃঙ্খলা

এদিন হিরাপুর এলাকার একটি ক্লাবে এই বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রীকে সামনে পেতেই ভিড় জমান স্থানীয় দিনমজুর ও পরিচারিকার কাজ করা বহু মহিলা। তাঁদের অভিযোগ, অনলাইন ও অফলাইন— সব নিয়ম মেনে ফর্ম ফিলাপ করা সত্ত্বেও তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাচ্ছেন না। অনেকে তিন মাসের টাকা পেলেও গরিব মানুষ হিসেবে তাঁরা কেন বঞ্চিত হবেন, সেই প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন মহিলারা।

পরিস্থিতি আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে যখন এক প্রৌঢ়া কাঁদতে কাঁদতে জানান যে, তিনি গত তিন-চার মাস ধরে বার্ধক্যভাতাও পাচ্ছেন না এবং তাঁর কোনো কথাই কেউ শুনছে না। প্রথমদিকে স্থানীয় কিছু বিজেপি নেতা এই বিষয়ে কথা বলতে বাধা দেওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

শেষমেষ দায়িত্ব দিলেন স্থানীয় নেতার ওপর

পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে নিজেই আসর নামে নামেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি স্পষ্ট জানান যে এই ক্যাম্পটি মূলত পুর-পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগ শোনার জন্য। তবে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বুঝতে পেরে তিনি স্থানীয় এক বিজেপি নেতা অনুপ সিংকে দায়িত্ব দেন, যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি তাঁদের নাম নথিভুক্ত করতে এবং নতুন আবেদনকারীদের জন্য ফর্ম ফিলাপের ব্যবস্থা করতে।

নাগরিক পরিষেবা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করার উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে শেষ পর্যন্ত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র বকেয়া টাকাই যে মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াল, তা এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *