১৫টি জেলা জলমগ্ন, ঘরে-বাইরে ত্রাহি ত্রাহি রব! বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক তেজস্বী

হু হু করে বাড়ছে গঙ্গার জলস্তর। বিপদসীমা অতিক্রম করে ইতিমধ্যেই বিহারের বহু এলাকায় জল ঢুকে পড়ায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে প্রশাসন। ভোজপুর, পাটনা, সরন, বৈশালী, নালন্দা, বেগুসরাই, লক্ষ্মীসরাই ও জাহানাবাদ—এই জেলাগুলিতে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গঙ্গার জল যেভাবে বাড়ছে, তাতে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছাতে সোশ্যাল মিডিয়া ও মাইকিংয়ের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।

রাজধানী পাটনার পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে সরকারকে। জলসম্পদ দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পাটনার গান্ধীঘাটে গঙ্গা নদীর জলস্তর সর্বকালীন রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে মোকামাতেও। এই মারাত্মক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার দুপুরে হেলিকপ্টারে করে রাজ্যের বন্যা কবলিত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। এরপরেই একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসেন তিনি। নদীর ক্রমবর্ধমান জলস্তর ও বাঁধগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আধিকারিকদের আগে থেকেই সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সম্ভাব্য বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলিতে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবা, পানীয় জল ও শুকনো খাবার মজুত রাখতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। প্রয়োজনে উদ্ধারকাজে নামানো হবে এসডিআরএফ এবং এনডিআরএফ টিমকে।

এদিকে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। তাঁর অভিযোগ, গঙ্গা ছাড়াও শোন, পুনপুন, গণ্ডক, কোশী, বুড়ি গণ্ডক ও বাগমতি নদীর জলও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। রাজ্যের ১৫টি জেলা ইতিমধ্যে জলের তলায় চলে গেলেও সরকার পরিস্থিতি সামলাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি তাঁর। দুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না এবং ঘরবাড়ি ও খেতজমি জলের নিচে তলিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তেজস্বী। সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে গোটা বিহার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *