৩৬ হাজার ফুট উঁচুতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল বিমান, ড্রাগ নেওয়ার চাঞ্চল্যকর প্রমাণ মিলতেই কড়া সাজা দিল এয়ার ইন্ডিয়া

ড্রাগ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসার পরেই বড় পদক্ষেপ করল এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার যে বিমানটি আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা হারিয়ে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েছিল, সেই বিমানের পাইলট-ইন-কমান্ডকে অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার সংস্থার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বিমান চালনা ও যাত্রীদের নিরাপত্তা সংস্থার কাছে সর্বদা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। ওই পাইলটের সাইকো-অ্যাক্টিভ পদার্থের পরীক্ষার ফল ‘নট নেগেটিভ’ বা পজিটিভ আসায় নিরাপত্তা ও নিয়মের সঙ্গে আপস না করার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুযায়ী এই বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ৪ অগস্ট ফুকেট থেকে ১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু সদস্যকে নিয়ে উড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারবাস A320 বিমানটি। ওড়িশার আকাশসীমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই বিমানটির তিনটি হাইড্রলিক সিস্টেমেই অল্প সময়ের জন্য চাপ কমে যায়। এর ফলে অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা হারিয়ে চরম ঝাঁকুনিতে পড়ে। বিমানটির উচ্চতায় এই অস্বাভাবিক ওঠানামার জেরে ভেতরে থাকা প্রায় ২০ জন যাত্রী এবং চারজন কেবিন ক্রু আহত হন। বিমানের ওভারহেড বিন ও ছাদের প্যানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করাতে সক্ষম হন ক্রু সদস্যরা।
এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)-র প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরেই পাইলটের রক্তে সাইকো-অ্যাকটিভ পদার্থের উপস্থিতির বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে আসে এবং এই কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।