ব্লকবাস্টার ‘লগান’ই ধ্বংস করেছিল অভিনেতার কেরিয়ার! অস্কারজয়ী ছবিতে অভিনয় করে কেন এমন করুণ দশায় পড়েছিলেন ‘বাঘা’?

সাধারণত বলিউড তারকাদের মুখে শোনা যায় ছবি ফ্লপ করার কারণে তাঁদের কেরিয়ারে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। কিন্তু এমন কিছু বিরল ঘটনাও ঘটে, যেখানে একটি বিশাল সুপারহিট বা ব্লকবাস্টার ছবি একজন অভিনেতার কেরিয়ারকে সাময়িকভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছিল! ২০০১ সালের অস্কার মনোনীত কালজয়ী ছবি ‘লগান’-এর মূক ঢোলবাদক ‘বাঘা’ অর্থাৎ অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার আমিন হাজি-র ক্ষেত্রে ঠিক এমনটাই ঘটেছিল। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে আমিন খোলসা করেছেন যে, ওই একটি ছবি তাঁর জীবনকে কীভাবে বদলে দিয়েছিল এবং কেন তিনি এরপর কাজ পাওয়া নিয়ে চরম সংগ্রামের মুখে পড়েছিলেন।
আশুতোষ গোয়ারিকর পরিচালিত ‘লগান’ ছবিতে অভিনয়ের পর অভিনেতার কাছে একের পর এক নতুন ছবির প্রস্তাব আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু আমিনের দাবি, সেই চিত্রনাট্যগুলো তাঁর মনের মতো হয়নি। লগান-এর মতো মহাকাব্যিক নিখুঁত ছবির চিত্রনাট্যে কাজের অভিজ্ঞতার পর অন্য কোনও স্ক্রিপ্টই তাঁর ভাল লাগেনি।
নিজের সেই কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে আমিন জানান, লগান-এর পর থেকে তিনি ছবি সই করা প্রায় বন্ধই করে দিয়েছিলেন। তাঁকে যে সমস্ত চরিত্র অফার করা হতো, তার বেশিরভাগই ছিল হয় ‘মূক ও বধির’ চরিত্র অথবা অত্যন্ত তাৎপর্যহীন কিছু ছোট ভূমিকা। অভিনেতার স্ত্রী শার্লট হুইটবি-কোলেস যে তাঁর এই সিদ্ধান্তে প্রচণ্ড বিরক্ত হয়েছিলেন, সে কথাও স্বীকার করেছেন আমিন। তাঁর স্ত্রী তাঁকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন এভাবে চললে সংসার চলবে কী করে। আমিনের ভাষায়, “লগান-এর পর কোনও চরিত্র আসলেই আমি বলতাম— ‘এটা জঘন্য চরিত্র’ কিংবা ‘ওটা কাজের নয়’। তখন আমার স্ত্রী আমাকে বলত— ‘আমরা কী করব বল তো? তোমাকেই তো কাজ করতে হবে, কিছু না কিছু তো বেছে নিতেই হবে।’ “
‘লগান’ ছবির সঙ্গে নিজের আবেগ জড়িয়ে থাকার কথা বলতে গিয়ে আমিন বলেন, “সত্যি বলতে, ‘লগান’ ছিল একটি অনন্য চিত্রনাট্য। এটি ছিল জীবনের একটা বিরাট প্রাপ্তি। আমি ভাগ্যবান যে ‘লগান’ পেয়েছিলাম, কিন্তু তার পরে আমি যত অফার বা চিত্রনাট্য পেয়েছি, তা এই ছবির তুলনায় একেবারে শূন্যের সমান ছিল। তাই ‘লগান’-এর পর আমি যেন মানসিকভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলাম, কারণ আমি এরপর আর কাজ করতেই পারছিলাম না। আসলে ওরা আমাকে ‘লগান’-এর মতো একটা তাজমহল দিয়েছিল, ‘স্বদেশ’-এর মতো ছবিতে লেখার সুযোগ দিয়েছিল এবং আমির খানের মতো একজন বন্ধু দিয়েছিল। এর পরে আমি আর কীই বা করতে পারতাম?”
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আশুতোষ গোয়ারিকর পরিচালিত ঐতিহাসিক স্পোর্টস ড্রামা ‘লগান’-এ আমির খান, গ্রেসি সিং, র্যাচেল শেলি প্রমুখের সঙ্গে অভিনয় করে রাতারাতি খ্যাতির আলোয় এসেছিলেন আমিন হাজি। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ আমলের পটভূমিতে তৈরি এই ছবি অস্কারের মঞ্চে সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়ন পেয়ে ইতিহাস গড়েছিল।
অভিনয়ের পাশাপাশি আমিন একজন দক্ষ চিত্রনাট্যকারও বটে। তিনি পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকরের সঙ্গে ‘স্বদেশ’ এবং ‘যোধা আকবর’-এর মতো প্রশংসিত ছবিতেও কাজ করেছেন। ২০২১ সালে কুণাল কাপুর ও আমাইরা দস্তুর অভিনীত মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ছবি ‘কোই জানে না’ পরিচালনার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। কিন্তু শত কাজ সত্ত্বেও, ‘লগান’-এর বাঘা চরিত্রটি আজও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে তাঁর সবচেয়ে বড় এবং অবিস্মরণীয় পরিচয় হয়ে রয়েছে।