এক ফোঁটাও মদ খান না, তবুও লিভার পচে নষ্ট হচ্ছে! অজান্তেই কোন মারাত্মক ভুল করছেন আপনি?

অ্যালকোহল বা মদ ছুঁয়েও দেখেন না বলেই যে লিভার সম্পূর্ণ নিরাপদ, এমনটা ভাবলে মস্ত বড় ভুল করবেন। চিকিৎসকদের মতে, মদ্যপান ছাড়াও এমন বেশ কিছু পরিচিত কারণ রয়েছে যা ধীরে ধীরে লিভারকে কুরে কুরে নষ্ট করে দিতে পারে। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে শরীরে কোনও স্পষ্ট উপসর্গ প্রকাশ না পেলেও ভেতর থেকেই বড়সড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

কীভাবে ক্ষতি হয় লিভারের? চিকিৎসকদের একাংশের মতে, বর্তমান সময়ে লিভারের অন্যতম প্রধান শত্রু হয়ে উঠছে অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাব। এই বিপাকীয় সমস্যাগুলির কারণে লিভারে অতিরিক্ত ফ্যাট বা চর্বি জমতে শুরু করে। আগে একে ‘নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার’ বলা হলেও বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ‘মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড লিভার ডিজিজ’ বলা হয়।

বিশেষ ভয়ের বিষয় হলো, এই রোগ শুধু অতিরিক্ত ওজনের অধিকারীদেরই হয় এমন নয়। বাইরে থেকে বাহ্যিক ফিটনেস ঠিক থাকলেও যদি কারও ডায়াবেটিস, অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল বা পেটে অতিরিক্ত চর্বি থাকে, তবে তাঁদের ক্ষেত্রেও এই ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি সমানভাবে থেকে যায়।

সাইলেন্ট কিলার ও কিছু সতর্কতা: লিভারের রোগকে চিকিৎসকরা অনেক সময় ‘সাইলেন্ট ডিজিজ’ বা নীরব ঘাতক বলে থাকেন। কারণ বছরের পর বছর কোনো লক্ষণ প্রকাশ না পেয়েই এটি মারাত্মক আকার নিতে পারে। অনেক সময় রুটিন লিভার ফাংশন টেস্টের রিপোর্ট স্বাভাবিক আসলেও লিভার পুরোপুরি সুস্থ, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে প্রয়োজনে আল্ট্রাসাউন্ড বা ফাইব্রোস্ক্যান পরীক্ষার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

পাশাপাশি, লিভার সুস্থ রাখার অন্ধ মোহে যত্রতত্র প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট বা ডিটক্স রেমেডি খাওয়ার প্রবণতাও মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। কারণ অনেক সাপ্লিমেন্টে এমন উপাদান থাকে যা উলটে লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এগুলি সেবন করা থেকে বিরত থাকা উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে এই সমস্যা ধরা পড়লে ওজন নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্য এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে লিভারকে সম্পূর্ণ সুস্থ রাখা সম্ভব। কিন্তু অবহেলা করলে তা সিরোসিসের মতো মারাত্মক পরিণতির দিকে গড়াতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *