ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে এল নিনো! ২০২৭-এ কোন সর্বনাশের মুখোমুখি হতে চলেছে পৃথিবী?

ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে চরম আবহাওয়ার বড়সড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে এল নিনো। ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তৈরি হওয়া এই জলবায়ু পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব স্থায়ী হতে পারে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লুএমও) ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কড়া সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই শক্তিশালী এল নিনো সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ, যা নিয়ে গভীর চিন্তায় রয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।
এল নিনো মূলত এমন একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু পরিস্থিতি, যার প্রভাবে মধ্য ও পূর্ব ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের জল অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে ওঠে। এর ফলে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক সঞ্চালন ব্যবস্থা বদলে যায় এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক গতিবিধেতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যেই সমুদ্রের জল অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়েছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও ক্রমাগত বাড়ছে। এর জেরে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের অঞ্চলেও কোথাও তীব্র দাবদাহ ও খরা, আবার কোথাও প্রবল বন্যার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২০২৬ সালের শেষের দিকে এল নিনোর তীব্রতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এবং এর প্রভাব ২০২৭ সালেও অব্যাহত থাকবে। ডব্লুএমও-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত একটি বছর বর্তমান তাপমাত্রার সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে প্রায় ৮৬ শতাংশ। এর ফলে ২০২৭ সাল মানব ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
ভারতের ক্ষেত্রে এল নিনোর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বর্ষার ওপর। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এল নিনোর প্রভাবে ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ২০২৭ সালের শুরুর দিকেও যদি এই জলবায়ু চক্র সক্রিয় থাকে, তবে তা দেশের বৃষ্টিপাত, কৃষি এবং জল সরবরাহের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। উষ্ণ হতে থাকা পৃথিবীর বুকে এই শক্তিশালী এল নিনোর সংঘাত আগামী দিনে পরিস্থিতিকে কতটা জটিল করে তোলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।