‘রেকর্ড-কম্পিউটার-দলিল সব লুঠ করেছে!’-বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো

ভোররাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস ও আইটি সেলে বর্বরোচিত হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পাশাপাশি বিকেলেই ফেসবুক লাইভে এসে সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন ফেসবুক লাইভে এসে অত্যন্ত ক্ষিপ্ত মেজাজে মমতা প্রশ্ন তোলেন, কেন রাতের অন্ধকারে দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে রেকর্ড, দলিল ও কম্পিউটার লুঠ করা হলো? তাঁর অভিযোগ, নাকের ডগায় শেক্সপিয়ার থানার পুলিশ থাকা সত্ত্বেও দুষ্কৃতীরা অবাধে এই তাণ্ডব চালিয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে চিরকাল বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে না এবং দিল্লি গেলেই সব ক্ষমতার অহংকার চূর্ণ হয়ে যাবে। মধ্যরাতে বিজেপি গুন্ডারা এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে রাজনৈতিক লড়াই রাজনৈতিকভাবেই হওয়া উচিত, কিন্তু এই ধরনের কাপুরুষোচিত আক্রমণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, এই দল হলো মূলত গিরগিটি, লুটেরা এবং সংস্কৃতির লেশমাত্র না থাকা অর্ধশিক্ষিতদের দল। কলকাতা শহরের বুকেই যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে, তবে গ্রামগঞ্জের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মমতার দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই চার হাজারের বেশি দলীয় অফিস জোর করে দখল করে নেওয়া হয়েছে এবং চেয়ার-টেবিল থেকে শুরু করে দলীয় পতাকা পর্যন্ত পদদলিত করা হয়েছে।

এদিকে ক্যামাক স্ট্রিটের এই চাঞ্চল্যকর ভাঙচুরের ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে শুধু দলীয় অফিস ভাঙচুরের ঘটনাই নয়, এদিন নিজের ফেসবুক লাইভে একাধিক রাজনৈতিক ইস্যু এবং বিরোধী দলকেও একহাত নেন তিনি। সরকারি অনুষ্ঠানে গেরুয়া কার্পেট ব্যবহার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেও তীব্র আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সব মিলিয়ে ক্যামাক স্ট্রিটের এই মধ্যরাতের হামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন চমে পৌঁছয়ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *