বোর্ড গঠনে ধুন্ধুমার দিনহাটায়! বিজেপির দুই গোষ্ঠীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে তিরবিদ্ধ মহিলা কর্মী

দিনহাটার নাজিরহাট ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের শালমারা এলাকায় বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে বিজেপির প্রকাশ্য গোষ্ঠী কোন্দল রক্তক্ষয়ী রূপ নিল। দুই পক্ষের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা ওই এলাকায় তিরবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন বিজেপির এক মহিলা কর্মী। আহত ওই কর্মীর নাম শান্তি তালুকদার। বর্তমানে তিনি দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার নাজিরহাট ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, পঞ্চায়েত সদস্যা যুথিকা বর্মনকে প্রধান পদে বসানো হবে। সেই সিদ্ধান্ত মেনেই যুথিকা বর্মন তাঁর অনুগামীদের নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময়ই অপর এক বিজেপি নেতা তরণীকান্ত বর্মনের অনুগামীরা তাঁদের পথ আটকায় এবং চড়াও হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, সেই সংঘর্ষের মাঝেই তিরের আঘাতে গুরুতর জখম হন বিজেপি কর্মী শান্তি তালুকদার সহ বেশ কয়েকজন মহিলা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকেই পুরো নাজিরহাট জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, পঞ্চায়েত দখলকে কেন্দ্র করে বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আবারও বেআব্রু হয়ে পড়ল।
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতা তরণীকান্ত বর্মন। তাঁর পালটা দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এদিকে এলাকায় গন্ডগোলের খবর পেয়ে সাহেবগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। কোচবিহার জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই গোলমালের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষে একজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
Entire বিষয়টি নিয়ে দিনহাটার বিজেপি বিধায়ক অজয় রায় জানান, পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলের নাম ভাঙিয়ে যেই হোক না কেন, গন্ডগোল পাকালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে নাজিরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণ তৃণমূলের হাতে গেলেও পরবর্তী সময়ে পদত্যাগ পর্বের জেরে নতুন করে বোর্ড গঠন ঘিরে গেরুয়া শিবিরের এই অভ্যন্তরীণ হানাহানি দলের ভাবমূর্তিকে আরও বিপাকে ফেলল।