আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা ফ্লপ! ট্রাম্পের নতুন আদেশে ঐতিহাসিক স্থগিতাদেশ আদালতের

আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) সীমিত করার ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টা আরও একবার আইনি বাধার মুখে পড়ল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছেন। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়ার নিয়ম বন্ধ করার মার্কিন প্রেসিডেন্টের দীর্ঘদিনের নীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগল।

মার্কিন জেলা জজ ডেবোরা বোর্ডম্যান এই নতুন নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। গত আগস্ট মাসে স্বাক্ষরিত ওই আদেশে মূলত তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা প্রসূতি পর্যটনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং মার্কিন মাটিতে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করার ক্ষেত্রগুলো আরও প্রসারিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের ট্রাম্পের পূর্ববর্তী বৃহত্তর প্রচেষ্টা খারিজ করার ঠিক কয়েক সপ্তাহের মাথায় এই রায় এল। বিচারক বোর্ডম্যান সতর্ক করে বলেছেন যে, প্রশাসনের এই নতুন আদেশ মার্কিন সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

মার্কিন জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়ম ও চতুর্দশ সংশোধনী

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বলতে সেই নীতিকে বোঝায় যেখানে মার্কিন মাটিতে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করে, পিতা-মাতার অভিবাসন মর্যাদা যাই হোক না কেন। ১৮৬-তে অনুমোদিত মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারাতেই এই নীতির মূল ভিত্তি নিহিত রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে এর অর্থ দাঁড়ায় যে, undocumented অভিবাসী বা সাময়িকভাবে দেশটিতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ঘরে মার্কিন মাটিতে জন্ম নেওয়া শিশুরা জন্মের সময়ই নাগরিকত্ব পেয়ে থাকে। অবশ্য এর কিছু নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম রয়েছে, যার মধ্যে বিদেশী কূটনীতিকদের সন্তানরা প্রধান। ট্রাম্পের দাবি ছিল যে, এই ব্যবস্থা অবৈধ অভিবাসন এবং ‘বার্থ ট্যুরিজমকে’ উৎসাহিত করে, যা মূলত বিদেশি নাগরিকদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান প্রসবের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার প্রবণতা।

ট্রাম্পের নতুন ধাক্কা ও আইনি লড়াই

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনেই ট্রাম্প নির্দিষ্ট কিছু শিশুর জন্য জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব समाप्त করার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, বাবা-মা উভয়েই মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা না হলে ১৪তম সংশোধনী শিশুদের নাগরিকত্বের গ্যারান্টি দেয় না। পরবর্তীতে চলতি বছরের জুন মাসে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে ট্রাম্পের এই উদ্যোগ সংবিধান ও ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের সেই রায়ের তোয়াক্কা না করে গত আগস্ট মাসে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন একটি নির্দেশিকা জারি করে, যা এবার আদালতের বড় বাধার মুখে পড়ল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *