দক্ষিণবঙ্গে ফের বন্যার চোখ রাঙানি! ডিভিসির লাখ লাখ কিউসেক জলে কোন কোন জেলা ডুবছে?

ঝাড়খণ্ড ও বিহারে অবিরাম বৃষ্টির জেরে জলস্তর হু হু করে বাড়ায় দক্ষিণবঙ্গে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দামোদর নদের অববাহিকায় থাকা একাধিক জেলায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নেমেছে নবান্ন।

ডিভিসির জলাধারগুলি থেকে বিপুল পরিমাণে জল ছাড়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকেও রেকর্ড পরিমাণ জল নিষ্কাশন করা হচ্ছে। মাইথন এবং পাঞ্চেত জলাধারের জলস্তর বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছানোয় জল ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণের অনুরোধ জানানো হলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি ও হাওড়া জেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যেই হুগলির দামোদর তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের নিচু এলাকায় নদীর জল ঢুকতে শুরু করেছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, বিকালের পর দক্ষিণবঙ্গের নিম্ন অববাহিকাগুলির পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। নদীর জলস্তর বাড়লে প্লাবনের কবলে পড়তে পারে বিস্তীর্ণ এলাকা। এই সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী এলাকায় মাইকে লাগাতার প্রচার চালানো হচ্ছে। নিচু এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও সম্পন্ন রাখতে বলা হয়েছে।

শুধুমাত্র দামোদর নদ নয়, সমানভাবে নজর রাখা হচ্ছে মুণ্ডেশ্বরী এবং রূপনারায়ণ নদীর গতিপ্রকৃতির উপরও। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং এসডিআরএফ-কে, যাতে যেকোনো খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা যায়। পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকেরা। ডিভিসির জল ছাড়া এবং চার জেলার বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নবান্নে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। নদীর জলস্তর কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তার ওপর নির্ভর করছে দক্ষিণবঙ্গের আগামী কয়েক ঘণ্টার ভাগ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *