“আর কিছুদিন চললে বাংলাদেশের মতো…?”-চরম বিস্ফোরক দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘ বাম আমলের পাশাপাশি বিগত সরকারের শেষ দশ বছরের শিক্ষানীতিকেও একহাত নিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ঠিক সময়ে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন না ঘটলে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এদেশের পার্শ্ববর্তী দেশের ব্যবস্থার কোনো তফাত খুঁজে পাওয়া যেত না।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতে কমিউনিস্টরা যখন রাজ্যে রাজত্ব চালাত, তখন তারা যেমন মাতৃভাষা বাংলার প্রচার ও প্রসারে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করেছিল, তেমনই ইংরেজি শিক্ষা ও কম্পিউটার প্রযুক্তির দরজাও বন্ধ করে রাখতে চেয়েছিল। পরবর্তী সরকারের শেষ দশ বছরের শাসনকাল প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, সেই সময় শিক্ষাব্যবস্থায় যে নীতি নেওয়া হয়েছিল, তা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকলে রাজ্যের প্রাচীন সংস্কার, পরম্পরা, ঐতিহ্য, দেশপ্রেম এবং রাষ্ট্রবাদ চিরতরে মুছে যেত।

সিলেবাসে ভাষার বিকৃতি ও তোষণের রাজনীতি

শিক্ষাক্ষেত্রে অতীতে একাধিক পরিকল্পনামাফিক বিভাজন ঘটানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ে ছোট ছোট বাচ্চাদের সিলেবাসে শব্দ ও ভাষার বিকৃতি ঘটানো হয়েছে, যেখানে আকাশকে ‘আসমান’ বা মাকে ‘আম্মা’ লেখার মতো বিষয় সামনে এসেছে। বিশেষ একটি অংশের ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্কলারশিপের একপেশে সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে শিশুমনেও বিভাজনের বিষ ঢোকাটোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁর।

তবে বাংলার সচেতন মানুষ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবর্তন এনেছেন বলেই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরেই নতুন প্রশাসন জাতীয় শিক্ষানীতিকে সাদরে গ্রহণ করেছে এবং স্কুলগুলির প্রাত্যহিক প্রার্থনায় পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে।

শিক্ষাঙ্গণে নতুন রূপরেখা ও এনসিসি ফেরানোর ঘোষণা

এদিন বিদ্যা ভারতীর মতো সংগঠনের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা, ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরে এই ধরনের বিদ্যামন্দিরের সংখ্যা এক হাজারে উন্নীত হওয়া উচিত। শুধু তাই নয়, শিক্ষাঙ্গণে কোনো ধরনের বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে তিনি প্রতিটি স্কুলে এনসিসি (NCC) চালুর জোরালো সওয়াল করেছেন। ইতিমধ্যে রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে এনসিসি বাধ্যতামূলক করা এবং আরও নতুন সৈনিক স্কুল প্রতিষ্ঠার আবেদন জানিয়ে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভারতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঠিক প্রসারে রাজ্য সরকার আগামী দিনে বিদ্যা ভারতীকে পাশে নিয়েই এগোতে চায় বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *