‘সাহস থাকলে নিজের ডিগ্রি প্রকাশ্যে আনুন!’ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অভিজিৎ দিপকে!

নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় (Boston University)-এর ডিগ্রি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা শুরু হওয়ার পর এবার সরাসরি পালটা আক্রমণ শানালেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janata Party)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। নিজের সমস্ত নথি ও স্কলারশিপের চিঠি প্রকাশ্যে আনার ঘোষণা করার পাশাপাশি তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও নিজের শিক্ষাগত ডিগ্রি সর্বসমক্ষে আনবার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
কী দাবি অভিজিৎ দিপকের?
আম আদমি পার্টির (AAP)-এর প্রাক্তন কৌশলবিদ তথা চলতি বছরের মে মাসে ‘সিজেপি’ (CJP) দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের বোস্টনের ডিগ্রি নিয়ে সম্প্রতি নেটপাড়ায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এরপরই এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি ট্যাগ করেন তিনি। দিপকের বক্তব্য, সাধারণ মানুষ প্রায় ১২ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাগত নথি দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। ২০১৪ সাল থেকে নরেন্দ্র মোদী দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন থাকার প্রসঙ্গ টেনেই তিনি এই ১২ বছরের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর সাফ কথা, দু’জনের ডিগ্রি একসঙ্গে সামনে এলেই সমস্ত বিতর্কের চিরতরে অবসান ঘটবে।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্ক:
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগে প্রায় এক দশক আগে তৎকালীন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং ‘আপ’-এর তরফে আরটিআই (RTI) আইনের মাধ্যমে মোদীর শিক্ষাগত নথি প্রকাশ্যে আনার দাবি জানানো হয়েছিল। সে সময় ব্যাচেলর ও মাস্টার ডিগ্রির তথ্য নিয়ে নানা অসঙ্গতির অভিযোগও তোলা হয়।
যদিও সে সময় বিজেপির তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করা হয়েছিল যে, প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৮ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং ১৯৮৩ সালে গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করেছেন। এমনকি ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার জন্য কেজরিওয়ালকে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তুলেছিল শাসক দল। পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতেও গড়ায়। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে দিল্লি হাইকোর্ট রায় দেয় যে, আরটিআই আইনের গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা ব্যক্তিগত তথ্য, তাই বিশ্ববিদ্যালয় সেই নথি প্রকাশ করতে বাধ্য নয়। বর্তমানে সেই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল বিচারাধীন রয়েছে।
ছাত্র আন্দোলন থেকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে দিপকে:
মূলত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বেকারত্বের মতো জ্বলন্ত সমস্যাগুলিকে সামনে রেখে ছাত্র আন্দোলনের আবহে এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দলের জন্ম দেন দিপকে। তবে তাঁর ডিগ্রি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধার পর তিনি যেভাবে প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, তাতে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। যদিও দিপকের এই মন্তব্যের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা বিজেপির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।