ঋণে সুদের হার বাড়াল রাজ্য! সরকারি সংস্থা থেকে পঞ্চায়েত—কাদের জন্য কড়া নির্দেশিকা দিল নবান্ন?

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য রাজ্য সরকারের দেওয়া বিভিন্ন ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট করে দিল অর্থ দফতর। বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি সংস্থাকে এই ঋণের জন্য বার্ষিক ৭.৩২ শতাংশ হারে সুদ প্রদান করতে হবে। গত ৩১ আগস্ট অর্থ দফতরের স্পেশাল সেক্রেটারি শঙ্কর চক্রবর্তী রাজ্যের অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলকে (এজি) চিঠি পাঠিয়ে এই নির্দেশিকা জারি করেছেন।

কোথায় কোথায় প্রযোজ্য হবে এই সুদের হার?
অর্থ দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, মূলত চারটি প্রধান ক্ষেত্রে ৭.৩২ শতাংশ হারে এই সুদ প্রযোজ্য হবে:

সরকারি এবং সমবায় ক্ষেত্রের বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক সংস্থা।

মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, পুরসভা, উন্নয়ন পর্ষদ, জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি এবং হাউসিং বোর্ডের মতো স্থানীয় সংস্থাসমূহ।

নাবার্ড (NABARD) বা এনসিডিসি (NCDC)-র অর্থে পরিচালিত হয় না, এমন সমবায় সমিতিগুলি।

অন্যান্য সমস্ত অনুমোদিত ঋণগ্রহীতারা।

ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে কড়া শর্ত ও মেয়াদ:
নবান্নের তরফে ঋণ শোধের বিষয়ে বেশ কিছু কঠোর নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ঋণ নেওয়ার প্রথম বছর থেকেই সমান বার্ষিক কিস্তিতে আসল টাকা শোধ করা শুরু করতে হবে। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ যতটা সম্ভব কম রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণভাবে কোনো ঋণই ১০ বছরের বেশি সময়ের জন্য মঞ্জুর করা হবে না। অন্যদিকে, ‘ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল’ বা কার্যকরী মূলধনের ঘাটতি মেটাতে নেওয়া ঋণগুলি সাধারণত ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে এবং কোনো অবস্থাতেই ৫ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে মিটিয়ে ফেলতে হবে।

পেনাল্টি ও সুদের নিয়ম:
বকেয়া আসলের ওপর বার্ষিক ভিত্তিতে সুদ মেটাতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া সুদ পরিশোধে কোনো ‘মোরাটোরিয়াম’ বা স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট সময়ে আসল বা কিস্তি মেটাতে ব্যর্থ হলে স্বাভাবিক সুদের হারের চেয়ে অতিরিক্ত ২.৫ শতাংশ হারে পেনাল্টি বা জরিমানা দিতে হবে।

যে ক্ষেত্রগুলিতে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়:
রাজ্য আবাসন দফতরের অধীনস্থ কিছু হাউসিং স্কিম, যেগুলি এলআইসি, জিআইসি বা হাডকো-র মতো সংস্থার অর্থে পরিচালিত হয়, সেখানে এই সুদের হার খাটবে না। এছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া বা রুগ্ন শিল্পের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম সরাসরি প্রযোজ্য নয়; সেইসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতরকে অর্থ দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে আলাদা সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, পুরোনো খেলাপিদের নতুন করে ঋণ দেওয়ার আগে বকেয়া টাকা আদায়ের বিষয়ে কড়া নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *