এক ক্লিকেই ঘরে আসছে পার্সেল! পর্দার আড়ালে থাকা ডেলিভারি এজেন্টের এই মর্মস্পর্শী ছবি চোখ ভেজাবে আপনারও!

অনলাইন শপিংয়ের সুবাদে আমাদের জীবন এখন অত্যন্ত সহজ হয়ে গেছে। পছন্দ না হলে এক ক্লিকেই জিনিস রিটার্ন বা ফেরত পাঠানোর ঝঞ্ঝাটও চুকে যায়। কিন্তু এই সহজ প্রক্রিয়াটির নেপথ্যে যে খেটে খাওয়া মানুষগুলোর প্রতিদিনের রক্তজল করা লড়াই জড়িয়ে থাকে, তা আমরা কজনই বা ভেবে দেখি! সম্প্রতি কর্ণাটকের এক তরুণীর শেয়ার করা একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরই এই কঠিন সত্যটি নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
কর্নাটকের বাসিন্দা শিতল সম্প্রতি অনলাইনে একটি গয়না বা জুয়েলারি পিস অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু পছন্দ না হওয়ায় তিনি যথারীতি তা রিটার্ন করার জন্য রিকোয়েস্ট পাঠান। নির্ধারিত দিনে কোম্পানির এক পিকআপ এজেন্ট তাঁর বাড়ি থেকে পার্সেলটি সংগ্রহ করতে আসেন। সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছিল। এজেন্ট পার্সেলটি নিয়ে তা ভালো করে পরীক্ষা করছিলেন। কিন্তু শিতল লক্ষ্য করেন যে, দাঁড়ানোর জায়গায় কোনো টেবিল বা বসার ব্যবস্থা না থাকায় ওই ডেলিভারি এজেন্ট সোজা রাস্তার ধারের মাটিতেই বসে পড়েছেন এবং অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে নিজের কাজ করে চলেছেন।
ভিডিওর পেছনের না বলা গল্প:
তীব্র রোদ আর গরমের মধ্যে প্রকাশ্যে রাস্তার ধারে মাটিতে বসে ওই এজেন্টের কাজ করার দৃশ্যটি শিতলের মনে গভীর রেখাতাপ করে। তিনি বুঝতে পারেন, আমরা ঘরে বসে আরামদায়ক এসি রুমে শপিং বা রিটার্ন করি, অথচ এই মানুষগুলো সামান্য ওই অর্ডারগুলোর জন্যই সারা দিন ধরে তীব্র রোদ, ট্রাফিক আর ক্লান্তি উপেক্ষা করে শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ছুটে বেড়ান।
এই মর্মস্পর্শী মুহূর্তটি শিতল নিজের মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। সঙ্গে লেখেন এক গভীর অনুভূতির কথা। তিনি জানান, ওই ডেলিভারি এজেন্টের ব্যক্তিগত জীবন বা তাঁর সংগ্রামের কথা তিনি হয়তো জানেন না, এমনকি তাঁর নামও তিনি চেনেন না। কিন্তু সমস্ত প্রতিকূলতার মাঝেও নিজের কাজটিকে এত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে করতে দেখাটা তাঁর হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
আমাদের একটু সহানুভূতিই পারে মুখে হাসি ফোটাতে:
দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক সময়ই ডেলিভারি বা পিকআপ এজেন্টদের স্রেফ একটি ‘সার্ভিস’ বা মাধ্যম হিসেবে দেখি—পার্সেল এল, ওটিপি (OTP) দিলাম, কাজ শেষ! কিন্তু সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কত শত সিঁড়ি ভেঙে, না খেয়ে বা জল না খেয়ে এই মানুষগুলো আমাদের দোরগোড়ায় সঠিক সময়ে জিনিস পৌঁছে দেন, তা আমরা ভুলেই যাই।
শিতলের এই ভাইরাল ভিডিও আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রতিটি সহজ অনলাইন ক্লিকের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনো এক অদম্য কর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রম। তাই আগামী দিনে যখনই কোনো ডেলিভারি বা পিকআপ বয় আপনার দরজায় আসবেন, একটু সম্মান, এক গ্লাস ঠান্ডা জল আর মুখে এক টুকরো মিষ্টি হাসি উপহার দিন—নিশ্চিতভাবেই তাদের সারাদিনের ক্লান্তির মাঝে এই ছোট ছোট জেশ্চারগুলো অনেক বড় প্রাপ্তি হয়ে উঠবে।