শিক্ষাবিদ নন, এবার সরাসরি শিক্ষা সচিব! ইউজিসির স্বায়ত্তশাসন নিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)-এর শীর্ষ পদে ফের এক আমলাকে বসানোকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কমিশনের নতুন কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ভারত সরকারের উচ্চশিক্ষা সচিব দীপ্তি গৌর মুখার্জি। এই নিয়োগের পরই দেশের উচ্চশিক্ষা নিয়ামক সংস্থার স্বায়ত্তশাসন ও আইন লঙ্ঘন নিয়ে সোচ্চার হয়েছে শিক্ষামহলের একটি বড় অংশ। ইউজিসির মতো একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে সরাসরি কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের সচিব পদমর্যাদার আধিকারিককে বসানোকে অনেকেই সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন।
আইন ভাঙার অভিযোগ ও বিতর্ক
উচ্চশিক্ষা সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে বিনীত জোশী এই পদে ছিলেন। তাঁকে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ে বদলি করার পর গত মাসে দীপ্তি গৌর মুখার্জিকে উচ্চশিক্ষা সচিব করা হয়। এর আগে অধ্যাপক এম জগদেশ কুমারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিনীত জোশিয়েই ইউজিসি চেয়ারপার্সনের অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।
তবে ইউজিসির নিজস্ব আইন অনুযায়ী, কমিশনের চেয়ারম্যান এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হবেন, যাঁরা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনও কর্মকর্তা নন। ইউজিসির প্রাক্তন সচিব অধ্যাপক আর কে চৌহান স্পষ্ট জানিয়েছেন, “উচ্চশিক্ষা সচিবকে চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া ইউজিসি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আইন অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া যায় না। উচ্চশিক্ষা সচিব প্রধান হলে ইউজিসির স্বায়ত্তশাসন মার খাবে।” তাঁর মতে, নিয়ম মেনে সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণ শিক্ষাবিদকেই এই দায়িত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
সরকারের কৌশল ও শিক্ষামহলের উদ্বেগ
শিক্ষামহলের একাংশের মতে, নরেন্দ্র মোদী সরকার তাদের জাতীয় শিক্ষানীতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চাইছে। একদিকে রাজ্যপালরা যেমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নিজেদের ভূমিকা বাড়াচ্ছেন, তেমনই অন্যদিকে শিক্ষাবিদদের পরিবর্তে আমলাদের ওপর বেশি আস্থা রাখছে কেন্দ্র।
ইউজিসির বর্তমান আইনে বলা আছে, কমিশন একজন চেয়ারপার্সন, একজন ভাইস-চেয়ারপার্সন এবং ১০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। যাঁদের মধ্যে চারজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং দুজন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তা থাকার কথা। বর্তমানে ১০ জন সদস্যের মধ্যে ছয়জন শিক্ষাবিদ থাকলেও সহ-সভাপতির পদটি শূন্য রয়েছে।
নতুন বিল ও ভবিষ্যতের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, সরকারের প্রস্তাবিত ‘বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল’ (VBSA)-এর মাধ্যমেই মূলত নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চাইছে কেন্দ্র। এই বিলের আওতায় স্বীকৃতি ও মান নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা পরিষদ গড়ার কথা রয়েছে। যৌথ সংসদীয় কমিটির পর্যালোচনার অধীনে থাকা সত্ত্বেও সরকার যেভাবে ইউজিসি-তে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে ইউজিসির কার্যকারিতা ও স্বায়ত্তশাসন সম্পূর্ণভাবে বিপন্ন হতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন শিক্ষাবিদরা।