নামে ‘ফাইভ স্টার’, কাজে চরম জঘন্য! খাবার থালায় তেলাপোকা আর পচা খাবার দেখেই বড় পদক্ষেপে FSSAI

হাজার হাজার টাকা খরচ করে দেশের নামী-দামী ফাইভ স্টার হোটেলে গিয়ে প্রিমিয়াম খাবার খাওয়া এবং রাজকীয় আতিথেয়তা উপভোগ করার অভ্যাস যাঁদের রয়েছে, তাঁদের জন্য রয়েছে এক চরম ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিলাসবহুল এই হোটেলগুলির রন্ধ্রশালায় যে কতটা বিপজ্জনক উপায়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও হাইজিনের নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়, তা সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মান কর্তৃপক্ষ (FSSAI)।
রান্নাঘরে তেলাপোকা থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার: সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লি-এনসিআর-এর অ্যারোসিটির মতো হাই-প্রোফাইল এলাকার কয়েকটি প্রধান পাঁচতারা হোটেলে (যেমন জে ডব্লিউ ম্যাট্রিয়ট এবং আন্দাজ) আকস্মিক হানা দিয়ে চমকে ওঠেন আধিকারিকরা। ওই হোটেলগুলির রান্নাঘরে মেলে পচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য, যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানো তেলাপোকা এবং কীটপতঙ্গ। এমনকি খাবার সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পাওয়া যায়।
FSSAI-এর কঠোর হুঁশিয়ারি: এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পরই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে এফএসএসআই (FSSAI)। ফুড রেগুলেটরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) রজিত পুহানি দেশের সমস্ত শীর্ষস্থানীয় হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, খাদ্য সুরক্ষার এই গুরুতর ত্রুটি বা অবহেলা কোনো অবস্থাতেই বরদাস্ত করা হবে না।
হোটেলগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, অবিলম্বে তাদের রান্নাঘরের হাইজিন এবং ফুড সেফটি স্ট্যান্ডার্ড কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে। একইসঙ্গে সমস্ত কিচেন স্টাফদের জন্য ফুড সেফটি ট্রেনিং (FOSTAC) এবং নিয়মিত থার্ড-পার্টি ফুড সেফটি অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদি এই নির্দেশ অমান্য করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলির লাইসেন্স পর্যন্ত বাতিল করে দেওয়া হতে পারে বলে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে নিয়ামক সংস্থা।