মাথায় গঙ্গার গ্রাস, অথচ চেয়ারে নেই কেউ! রাজনৈতিক ডামাডোলে মালদায় বড় বিপদের মুখে হাজার হাজার মানুষ

বর্ষার শেষ পর্যায়ে এসে ফের ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে গঙ্গা। উত্তর ভারতের প্রবল জলোচ্ছ্বাসের জেরে মঙ্গলবার মালদায় গঙ্গা নদী তার চূড়ান্ত বিপদসীমা ২৫.৩০ মিটার ছুঁয়ে ফেলে। নদীর গ্রাসে একের পর এক এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় গৃহহীন হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঠিক এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে আছে মালদা জেলা পরিষদ!
নেতৃত্বহীন প্রশাসন ও রাজনীতির মারপ্যাঁচ: নিয়ম অনুযায়ী বন্যা বা নদী ভাঙনের মতো বড় বিপর্যয়ের সময় ত্রাণের ব্যবস্থা করা, দ্রুত প্রকল্প তৈরি করা এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে জেলা পরিষদ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু বর্তমানে মালদা জেলা পরিষদে কোনো সভাধিপতি বা সহকারি সভাধিপতি তো দূরের কথা, কোনো কার্যকরী বোর্ডই নেই! আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, এই ১৫ দিনের অন্তর্বর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই।
প্রাক্তনদের উদ্বেগ ও বিপদের মেঘ: জেলা পরিষদের এমন বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রাক্তন সভাধিপতি সাবিনা ইয়াসমিন ও আবু তৈয়ব মহম্মদ রফিকুল হোসেনেরা। তাঁদের স্পষ্ট কথা, ব্লক বা সরকারি কর্মচারীরা কখনই জনপ্রতিনিধিদের মতো সরাসরি মানুষের সমস্যার গভীরে পৌঁছাতে পারেন না। এছাড়া ষোড়শ অর্থ কমিশনের টাকা চলে এলেও সভাধিপতির অভাবে কোনো উন্নয়নমূলক বা আপৎকালীন প্রকল্পই তৈরি করা যাচ্ছে না। গঙ্গার জল ফের হু হু করে বাড়লে মালদার রতুয়া, মানিকচক বা কালিয়াচকের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের কী পরিণতি হবে, তা ভেবেই এখন রাতের ঘুম উড়েছে সাধারণ মানুষের।